ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশচুক মঙ্গলবার জানান যে, রাশিয়া যাতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি পালন করে এবং পূর্বাঞ্চলের সুমি শহর থেকে বেসামরিক মানুষজনকে সরে যেতে দেয়, সে বিষয়ে তাদের সাথে একটি সমঝোতা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায় যে, কিয়েভ, চেরনিহিভ, খারকিভ এবং মারিউপোলে আরও নিরাপদ পারাপারের করিডোর স্থাপন করা হবে।
এর আগে ঐ সব এলাকা থেকে মানুষজনের চলে যাওয়ার জন্য একাধিকবার পথ তৈরির চেষ্টা করা হলে, সেসব পথে রাশিয়া আক্রমণ চালায়। যার ফলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার ইউক্রেনে আক্রমণ চলাকালীন সেইসব চেষ্টা ভেস্তে যায়।
সোমবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা রাশিয়ার এমন পরিকল্পনা নাকচ করে দেয়, যেই পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেকগুলো করিডোরই পলায়নরত ইউক্রেনের মানুষজনকে রাশিয়া বা বেলারুশে নিয়ে যেত।
রাতজুড়ে রাশিয়া পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের শহরে বোমাবর্ষণ করে এবং কিয়েভের একাধিক শহরতলীতে গোলা আঘাত করেছে।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বলে যে, ইউক্রেনের বাহিনী কিয়েভের দিকে রাশিয়ার অগ্রগতিকে, রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন শহরে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিরোধ করছে।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেন ওয়ালেস মঙ্গলবার বলেন যে, এ ধরণের প্রতিরোধ এবং সরবরাহজনিত সমস্যা রাশিয়ার বাহিনীকে আরও মরিয়া করে তুলছে। তিনি বলেন যে এর ফলে, রাশিয়া বেসামরিক মানুষজনের উপর “নির্বিচার গোলাবর্ষণ” করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন সোমবার রাশিয়ার প্রতি বেসামরিক মানুষজনের উপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।
রিগা-তে লাতভিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডগারস রিনকেভিকস এর সাথে এক সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন ব্লিংকেন বলেন, “খাদ্য এবং ওষুধ ঢুকতে দিন। মানুষজনকে নিরাপদে চলে যেতে দিন, এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এই ইচ্ছাকৃত যুদ্ধের অবসান করুন।” ব্লিংকেন “অবিরাম গোলাবর্ষণ” এবং সমঝোতা সাপেক্ষে তৈরি করা মানবিক পারাপারের করিডোরগুলোতে রাশিয়ার বাহিনীর আক্রমণের প্রতিবেদনের বিষয় উল্লেখ করেন।
ব্লিংকেন মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাঁক্রোর সাথে আলাপের জন্য প্যারিস যাচ্ছেন। ম্যাঁক্রো সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পুতিন এবং জেলেন্সকি, উভয়ের সাথেই কথা বলেছেন।