আইএস-এর আত্মঘাতী বিস্ফোরণে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মাইক্রোসফ্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সমাজসেবী বিল গেটস পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার হিলাল-ই-পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির কাছ থেকে গ্রহণ করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ছবি-রয়টার্স

পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার জানিয়েছে যে দক্ষিণ-পশ্চিম বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি উচ্চ স্তরের সরকারী যানবহরের কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত পাঁচ সদস্য নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন।

ইসলামিক স্টেট মঙ্গলবার সিবি শহরে ভয়াবহ হামলার দায় স্বীকার করেছে, এটি এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত দ্বিতীয় আত্মঘাতী বোমা হামলা।

স্থানীয় নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির অশ্বারোহী বাহিনী সিবি রোড অতিক্রম করার কয়েক মিনিট পরেই বোমাবাজটি সেখানে বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রেসিডেন্ট লক্ষ্যবস্তু ছিলেন কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আলভি কাছাকাছি একটি উন্মুক্ত এলাকায় একটি বার্ষিক সাংস্কৃতিক উত্সব থেকে ফিরে আসছিলেন যেখানে তিনি জাতীয় টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছিলেন । ঐ ভাষণে তিনি বেলুচিস্তান এবং পাকিস্তানের অন্যান্য স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

প্রেসিডেন্ট বিশদ বিবরণ ছাড়াই ভাষণে বলেন, "আমরা বুঝতে পারছি যে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের পরে আরও কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে গিয়ে পড়েছে," ।

আলভি গত মাসে স্থানীয় ডন নিউজ চ্যানেলকে বলেছিলেন, "যুদ্ধ-বিধ্বস্ত প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহার করা এমন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গেছে যেখানে নাইট-ভিশন গগলস এবং বন্দুকের মতো অস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছেছে”, যারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্তের ওপার থেকে হামলা করছে।

শুক্রবার, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিমদের একটি মসজিদের ভিতরে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী নিজের শরীরে বিস্ফোরণ ঘটায়। পরবর্তী শক্তিশালী বিস্ফোরণে ৬৩ জন নামাজি নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়। ইসলামিক স্টেট বোমা হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, তাদের একজন আফগান সদস্য এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

এদিকে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার বলেছে যে তাদের বাহিনী বেলুচিস্তানের তুরবাত জেলায় একটি সন্দেহজনক সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে এবং পরবর্তীতে ভারী বন্দুকযুদ্ধে দুই প্রধান কমান্ডার সহ “৭ জন সন্ত্রাসী" নিহত হয়েছে। অভিযানে একটি পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও জব্দ করা হয়েছে।

জাতিগোষ্ঠীগত বেলুচ বিদ্রোহীরাও নিয়মিতভাবে প্রদেশের বেসামরিক নাগরিক এবং পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। গত মাসে, বিদ্রোহীরা পৃথক হামলায় কমপক্ষে ১৯জন সেনাকে হত্যা করেছিল।

বেলুচিস্তান, একটি প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চল এবং খাইবার পাখতুনখোয়া আফগানিস্তানের সীমান্ত , যেখানে ইসলামিক স্টেটের আঞ্চলিক সহযোগী সংগঠন আইএস-খোরাসানের ঘাঁটি রয়েছে।

নিষিদ্ধ পাকিস্তানি তালিবানের পলাতক নেতা এবং যোদ্ধারাও পাকিস্তানে নিরাপত্তা অভিযান থেকে পালিয়ে আফগানিস্তানের দিকে আশ্রয় নিয়েছে। ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গি সংগঠনটি থেকে সীমান্তের অপর পারে তাদের আফগান অভয়ারণ্য থেকে হামলার পরিকল্পনা করে।