ভারত শুক্রবার প্রতিপক্ষ পাকিস্তানে "দুর্ঘটনাক্রমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ‘এর কথা নিশ্চিত করেছে এতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার বলেছে যে একটি ভারতীয় " অস্ত্রবিহীন সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র" তার ভূখণ্ডে আঘাত করেছে, বেসামরিক সম্পত্তির ক্ষতি করেছে তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
একটি সরকারি ভারতীয় বিবৃতি শুক্রবার ব্যাখ্যা করেছে যে "নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সময়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকস্মিক ভাবে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল।" এতে উল্লেখ করা হয় যে ভারত সরকার, এ ব্যাপারটিকে "গুরুতর ভাবে দেখছে” এবং একটি উচ্চ পর্যায়ের" ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এর আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার রাওয়ালপিন্ডির গ্যারিসন শহরে সংবাদদাতাদের বলেছেন, "পাকিস্তান এই স্পষ্ট লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ করে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করে।"
তিনি দাবি করেছেন, "যে কারণেই এই ঘটনাটি ঘটেছে, তা ভারতীয়দের ব্যাখ্যা করতে হবে। তিনি বলেন, এই "উস্কানিমূলক" ভারতীয় কাজটি বুধবার সন্ধ্যায় ঘটে।
ইফতিখার বলেছেন পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষিপ্ত রকেটটি দু'দেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ১০৪ কিলোমিটার দূরে ভারতীয় শহর সিরসা থেকে উড্ডয়নের সাথে সাথেই তা লক্ষ্য করে এবং এর সম্পূর্ণ উড়ানের পথ "নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ" করে।
তিনি বলেন, "প্রাথমিক গতিপথ থেকে, বস্তুটি হঠাৎ করে পাকিস্তানি ভূখণ্ডের দিকে চালিত হয় এবং পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে, অবশেষে মিয়া চান্নুর কাছে গিয়ে পড়ে"।
জেনারেল ব্যাখ্যা করেছেন যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ১২ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়ছিল এবং পাকিস্তানের পূর্ব সীমান্ত প্রদেশ পাঞ্জাবের ১২৪ কিলোমিটার অভ্যন্তরে তার যাত্রা শেষ করার আগে প্রায় ২০৪ সেকেন্ডের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমায় অবস্থান করেছিল।
ইফতিখার বলেন, " এর কারণে কিছু বেসামরিক সম্পত্তিরও ক্ষতি হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে, মানুষের জীবনের কোনও ক্ষতি বা আঘাতের ঘটনা ঘটেনি,"। তিনি উল্লেখ করেন যে সে এলাকায় কোনও স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনা ছিল না।
তবে ইফতিখার বলেছেন, এরকম ঘটনার ফলে একটি বড় ধরণের বিমান বিপর্যয় এবং স্থলে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।
তিনি বলেন, "এটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে এই ক্ষেপনাস্ত্রের আকাশ পথটিতে ভারতীয় এবং পাকিস্তানের আকাশসীমায় অনেক আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী ফ্লাইট, সেইসাথে স্থলে মানুষের জীবন এবং সম্পত্তিকে বিপন্ন করেছে," ।
পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন সিনিয়র অফিসার ভাইস মার্শাল তারিক জিয়া সংবাদদাতাদের বলেছেন যে বিমান বিশেষজ্ঞরা এখনও এই উচ্চ-গতির রকেটের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করছেন।