উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হয়েছে, ধ্বংসাবশেষ পড়েছে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি রেল স্টেশনে একজন দর্শক টিভিতে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ দেখছেন। (ছবি- এপি)

সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া—উত্তর কোরিয়া স্পষ্টতই বুধবারের প্রথম দিকে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটি মধ্য-আকাশে বিস্ফোরিত হয়েছে এবং পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ধ্বংসাবশেষের টুকরোগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রটি “উৎক্ষেপণের পরপরই” বিস্ফোরিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সুনান এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণ পরেই মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়া কী ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছে তা স্পষ্ট নয়। এর আগে, জাপানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া আপাতদৃষ্টিতে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, তবে এর বেশি বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়েছে এবং উত্তর কোরিয়াকে “ভবিষ্যতে এ ধরনের অস্থিতিশীল কাজ করা থেকে বিরত থাকার” আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে কোনো সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

উত্তর কোরিয়া এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। দেশটি সাধারণত পরের দিন সকালে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া রিপোর্টে তার অস্ত্র পরীক্ষা সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দেয়, কিন্তু প্রায়শই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে না।

উত্তর কোরিয়ার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সুনান বিমানবন্দরে পূর্ববর্তী দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ হয়েছিল। কিন্তু বিমানের উড্ডয়নের পথের কারণে ওই ক্ষেপণাস্ত্র জনবহুল অঞ্চলে গিয়ে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার ত্রুটিপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র দেশের নিজের জনবহুল এলাকায় পড়ার ঘটনা নয়। ২০১৮ সালে, একটি হোয়াসং-১২ নামের মধ্যবর্তী পাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করার পরপরই তা ব্যর্থ হয় এবং দৃশ্যত সেটি টোকচন শহরে গিয়ে পড়ে। উপগ্রহের ছবি দেখে বিশ্লেষকেরা জানান।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, উত্তর কোরিয়া শিগগিরই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের নাম করে একটি নতুন আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্পূর্ণ পরীক্ষা চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার আগের দুটি উৎক্ষেপণ ছিল আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম—ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল) আংশিক পরীক্ষা।

এই পরীক্ষার প্রতিক্রিয়া হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার বলেছে যে, তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং নিকটবর্তী ইয়েলো সিতে (হলুদ সাগর) একটি বিমানবাহী রণতরীর মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।

এ বছর এ পর্যন্ত, উত্তর কোরিয়া ১০ বারে ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বা ছোড়ার চেষ্টা করেছে। গত বছর কিমের কৌশলগত অস্ত্র মহড়ার ইচ্ছা পূরণের অংশ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চলছে।

উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, তারা একটি সামরিক গুপ্তচর উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের উৎক্ষেপণ নিজে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র প্রস্তুত করতে কাজ করতে পারে যদি এটি বড় আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ব্যবহার করে।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন-প্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক জোশুয়া পোলাকের মতে, যেহেতু দক্ষিণ কোরিয়ার আগে জাপান উৎক্ষেপণের চেষ্টার কথা জানিয়েছে, তাই ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্ভবত দিগন্তরেখার ওপরে দক্ষিণ কোরিয়ার রাডারের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়নি।

উত্তর কোরিয়া ২০১৭ সালে একাধিক উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হয়েছে, সেই সঙ্গে পরবর্তী বছরগুলোতে স্বল্পপাল্লার উৎক্ষেপণেও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। যদিও উত্তর কোরিয়া গত কয়েক বছরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে মিসাইল উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়া অস্বাভাবিক নয়।