শতভাগ বিদ্যুতায়ন একটি যুগান্তকারী অর্জন—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। (ছবি- ইউএনবি)

বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া একটি যুগান্তকারী অর্জন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “এই অর্জনের মাধ্যমে সরকার জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে”।

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “শিগগিরই সকল গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে বঙ্গবন্ধুর আরেকটি স্বপ্ন।”

শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কঠোর পরিশ্রমকারী সকল সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি উদ্যোগে বিদেশি বিনিয়োগে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মেঘনা ঘাট ও ৩৬০ মেগাওয়াট হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সাল থেকে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে যার ফলে শতভাগ বিদ্যুৎ কভারেজ অর্জন সম্ভব করেছে।”

তিনি বলেন, “এ অর্জনের ধারাবাহিকতায় জাতির পিতার আরেকটি স্বপ্ন পূরণে দেশের সব গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর নির্মাণের কাজ চলমান।”

অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে বিগত বছরগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “সোমবার পটুয়াখালী জেলায় সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। পায়রা সমুদ্র বন্দর, সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও অন্য অবকাঠামোর মতো অনেক বড় স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক দৃশ্যপটকে বদলে দিয়েছে।”

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চিরতরে শেষ হবে।”

বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন দক্ষিণাঞ্চলকে ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “দেশে ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং গত ১৩ বছর ধরে জনগণের রায়ে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারকে দেশের জন্য এই বড় অর্জনে সহায়তা করেছে।”

তিনি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ বনায়নের প্রচারণার পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ বন তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।