ইউক্রেনে রেডক্রসের বিরুদ্ধে অপ-তথ্য অভিযান, সংঘর্ষে যারা শিকার তাদের জন্য ক্ষতিকর

মারিউপোল থেকে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত লোকেরা ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়াতে একটি শরণার্থী কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর ভ্যান থেকে বেরিয়ে আসছে। ২৫মার্চ, ২০২২

ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ রেড ক্রস জানিয়েছে যে ইউক্রেনে তাদের মানবিক কাজকে অসম্মান করার উদ্দ্যেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ইউক্রেনে মানবিক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সুইস ভিত্তিক এই সংস্থাটি। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া দেশটিতে আক্রমণ করার পর থেকে বেসামরিক জনগণের উপর মৃত্যু, ধ্বংস এবং দুর্ভোগের মাত্রা বেড়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

বন্দর শহর মারিউপোলে অবিরত বোমা হামলা বেসামরিক বাড়িঘর এবং অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। এই হামলা হাজার হাজার মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে, তাদেরকে খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করেছে।

রেড ক্রসের ইন্টারন্যাশনাল কমিটির মুখপাত্র ইওয়ান ওয়াটসন বলেন, মারিউপোল এবং অন্যান্য ফ্রন্টলাইন এলাকায় বেসামরিক নাগরিকরা জীবন ও মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে পালাচ্ছে। যখন কিনা যেখানে তাদের জন্যে এমন কোনো চুক্তি নেই যা তাদের নিরাপদে পালিয়ে যেতে সহায়তা করতো।

তিনি বলেন যে ভুল তথ্য ও অপ-তথ্যের একটি ঢেউ সংঘাতে আটকে পড়া লোকদের সুরক্ষতি করার এবং মানবিক সহায়তা বিতরণের জন্য আইসিআরসির প্রচেষ্টাকে বিপন্ন করে তুলছে।

তিনি বলেন, “আইসিআরসিকে অসম্মান করার জন্য মিথ্যা আখ্যান এবং ভুল তথ্য ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণ করতে আমরা দেখছি। আর এতে আমাদের দল এবং আমাদের রেড ক্রস, রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের অংশীদারদের জন্য এবং আমরা যাদের সেবা করি তাদের জন্য সত্যিকারের ক্ষতিকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,”।

ওয়াটসন বলেন, আইসিআরসিকে লক্ষ্য করে সামাজিক মিডিয়া জুড়ে ভুল তথ্য এবং অপ-তথ্য ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন ,উদাহরণস্বরূপ, জোরপূর্বক উচ্ছেদের ক্ষেত্রে সংস্থার কথিত ভূমিকার যে দাবি তার সত্যতার কোন ভিত্তি নেই।

আইসিআরসির মুখপাত্র বলেছেন, "আইসিআরসি কোনো জোরপূর্বক উচ্ছেদ, মারিউপোল বা অন্য কোনো ইউক্রেনীয় শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের রাশিয়ায় জোরপূর্বক স্থানান্তরের সাথে জড়িত ছিল না। আইসিআরসি ইউক্রেনীয়দের সরিয়ে নেয়ার জন্য রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে কোন অফিস খুলতে চায় না যা কিনা অনেক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। সুতরাং, এটা একেবারে মিথ্যা. আমরা কোনো শরণার্থী শিবির বা অন্য কোনো ধরনের শিবির খুলছি না” ।