ইউক্রেনে আরও ৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পার্শ্ববর্তী বোরিসপিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া জ্যাভেলিন ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নামিয়ে সেগুলোর প্যাকেজিং খুলজেন ইউক্রেনের সেনা সদস্যরা, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২। (ফাইল ফটো)

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মঙ্গলবারের আকস্মিক বক্তব্যটিকে হোয়াইট হাউজ বুধবার আরও জোরদার করেছে। বক্তব্যে বাইডেন বলেছিলেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হয়ত ইউক্রেনে গণহত্যা সংঘটিত করছেন।

বাইডেন এও ঘোষণা দেন যে, ইউক্রেনে আরও ৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সহায়তা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

গণহত্যা বিষয়ে মন্তব্য সম্পর্কে হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব জেন সাকি বলেন, “প্রেসিডেন্ট সেটাই বলছিলেন যা আমরা সবাই দেখছি, সরেজমিনে যেই অত্যাচার হচ্ছে সেটা দিবালোকের মতই পরিষ্কার বলে তিনি মনে করেন।”

জেন সাকি আরও বলেন, “যেমনটা তিনি গতকাল উল্লেখ করেছেন, অবশ্যই আদালতে একটি বিচার প্রক্রিয়া সম্পাদিত হবে, তবে তিনি যা দেখছেন সেটিই বলেছেন, যেটা তিনি সরেজমিনে দেখেছেন, সরেজমিনের যেই অত্যাচারগুলো আমরা সকলেই দেখেছি।”

\সাকি বলেন, “আপনারা সেটাকে যাই বলেন, এখন আমাদের উদ্দেশ্য হল – যেটা আমাদের আজকের বিশাল সামরিক সহায়তা পরিকল্পনা থেকে প্রমাণিত – এই যুদ্ধে ইউক্রেনীয়দের সাহায্য ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা, যেখানে কিনা প্রতিদিনই আমরা অত্যাচার হতে দেখছি।”

তবে, ক্রেমলিন মুখপাত্র দ্যমিত্রি পেসকভ বাইডেনের ব্যাখ্যাটিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “পরিস্থিতি বিকৃত করার এমন প্রচেষ্টাকে আমরা অগ্রহণযোগ্য মনে করি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এমনটা গ্রহণযোগ্য নয়, যেই দেশ নিজেই সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সুবিদিত অপরাধ করেছে।”

বুধবার ঘন্টাব্যাপী এক ফোনালাপে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকিকে নতুন চালানটি সম্পর্কে জানান বাইডেন। পরে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা যেই অস্ত্রগুলো সরবরাহ করছি সেগুলো ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বিধ্বংসীভাবে ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনকে নিজেদের দেশ রক্ষা করার সক্ষমতা সংক্রান্ত সরবরাহগুলো যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহত রাখবে।”


পেন্টাগন জানিয়েছে যে নতুন চালানটিতে ৫০০ জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র, ৩০০ সুইচব্লেড ড্রোন, ৩০০ সাঁজোয়া যান, ১১ টি হেলিকপ্টার, রাসায়নিক, জৈবিক ও পারমাণবিক সুরক্ষা সরঞ্জাম, এবং ৩০,০০০ টি বডি আর্মার জ্যাকেট ও হেলমেট রয়েছে।

এর বাইরেও যুক্তরাষ্ট্র অজ্ঞাত সংখ্যক অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন সরবরাহ করছে।

পেন্টাগন প্রেস সচিব জন কার্বি জানান যে, বেলারুশে হেলিকপ্টার ও কামান সহ রাশিয়া নিজেদের বাহিনী পুনর্সজ্জিত করার সময়ের মধ্যেই সরঞ্জামগুলো সরবরাহ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।