সলোমন দ্বীপপুঞ্জে চীনের সম্প্রসারণের মোকাবিলা করছে যুক্তরাষ্ট্র

সলোমন দ্বীপপুঞ্জের প্রধানমন্ত্রী মানসেহ সোগাভারে (বাঁয়ে) এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং বেইজিং-এর গ্রেট হল অফ দ্য পিপল-এ একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। ৯ অক্টোবর, ২০১৯।

সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও চীনের মধ্যকার একটি নিরাপত্তা চুক্তি সংক্রান্ত উদ্বেগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় এ দ্বীপরাষ্ট্রটিতে তার কূটনৈতিক সম্প্রসারণ ও কোভিড-১৯ টিকার সহায়তা বাড়াচ্ছে।

এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহকারি সচিব ওয়েন্ডি শেরম্যান সলোমন দ্বীপপুঞ্জের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমিয়া মানেলের সাথে হোনিয়ারাতে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যকার “সম্পর্ককে প্রসারিত ও গভীর করার যৌথ প্রচেষ্টা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দেয়ার পর বর্তমানে হোনিয়ারাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেট রয়েছে।

শেরম্যানের সর্বসাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার আগে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পায় যেখানে বলা হয়েছে, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ এবং চীন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তি অনুসারে অভ্যন্তরীণ গোলযোগের ক্ষেত্রে দেশটি চীনা বাহিনী মোতায়েনের অনুমতি দিতে পারে।

ফাঁস হওয়া একটি খসড়া অনুসারে, সলোমন দ্বীপপুঞ্জের সরকার অনুরোধ করলে চীন সশস্ত্র পুলিশ ও সামরিক বাহিনী পাঠাতে পারে।চীনকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির উপকূলে তার নৌবাহিনীর জাহাজের ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

এপ্রিলের শুরুতে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের প্রধানমন্ত্রী মানসেহ সোগাভারে বলেছিলেন, তার দেশ চীনকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবে না।চীনও সেখানে সামরিক অবস্থান নেয়ার কথা অস্বীকার করেছিল ।

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক মন্ত্রী জেড সেসেলজা এ সপ্তাহের শুরুতে সোগাভারের সাথে আলোচনার জন্য সলোমন দ্বীপপুঞ্জে গিয়েছিলেন।

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা সলোমন দ্বীপপুঞ্জকে চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার কথা বিবেচনা করার ব্যাপারে সম্মানের সাথে আহ্বান জানিয়েছি এবং আমাদের অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্মুক্ততা ও স্বচ্ছতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ প্রশান্ত মহাসাগরীয় পরিবারের সাথে পরামর্শ করতে বলেছি।”

সলোমন দ্বীপপুঞ্জের সাথে অস্ট্রেলিয়ার ইতোমধ্যেই দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বেইজিং এবং হোনিয়ারার মধ্যকার চুক্তিটি সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও তার বাইরেও বিপদের ঘণ্টা বাজিয়েছে।