যেদিন রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরে তাদের প্রধান জাহাজটি হারিয়ে এক যন্ত্রণাদায়ক প্রতীকি পরাজয় ভোগ করছিল, সেই একই দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে তার দেশের মানুষের প্রদর্শিত সঙ্কল্পের প্রশংসা করলেন। একই সাথে “তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত – লড়াই করার সিদ্ধান্ত” নেওয়ার জন্যও তাদের প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকি।
তার সান্ধ্যকালীন বক্তব্যে ভলোদিমির জেলেন্সকি বৃহস্পতিবার বলেন যে, ৫০ দিন রাশিয়ার আক্রমণে টিকে থাকার জন্য ইউক্রেনীয়দের গর্বিত হওয়া উচিৎ, যখন কিনা আক্রমণকারীরা “আমাদের সর্বোচ্চ পাঁচদিন সময় দিয়েছিল”।
সে সময়ে মিত্র দেশের নেতারাও জেলেন্সকিকে দেশ ছেড়ে পালানোর তাগিদ দিয়েছিলেন। তারা নিশ্চিত ছিলেন না যে ইউক্রেন টিকতে পারবে কিনা। তিনি বলেন, “কিন্তু তারা জানতেন না যে ইউক্রেনীয়রা কতটা সাহসী, আমরা স্বাধীনতাকে এবং আমাদের যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে বাঁচার সম্ভাবনাকে কতটা মূল্যায়ন করি।”
আক্রমণের বিরুদ্ধে ইউক্রেন কি কি ভাবে প্রতিরক্ষা করেছে সেগুলো একে একে বলতে গিয়ে জেলেন্সকি উল্লেখ করেন, “যারা দেখিয়েছেন যে রুশ যুদ্ধজাহাজ চলে যেতে পারে, যদি সেটা [সাগরের] তলদেশেও হয় তবুও।”
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজ মস্কভার বিষয়টি তিনি এই একবারই মাত্র উল্লেখ করেন। জাহাজটির নাম রাশিয়ার রাজধানীর নামানুসারে রাখা হয়েছিল। যুদ্ধের শুরুর দিনগুলিতে এই জাহাজটিই ইউক্রেনের প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। জাহাজটিকে টেনে বন্দরে নিয়ে যাওয়ার সময়ে বৃহস্পতিবার সেটি ডুবে যায়। তার আগে সেটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণটি বিতর্কিত।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেছেন যে, তাদের বাহিনী জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানে। অপরদিকে, মস্কো জাহাজে আগুন লাগার কথা স্বীকার করলেও, হামলার কথা স্বীকার করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা কর্মকর্তারা আগুনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে কারণ যাই হোক না কেন, সেটির ডুবে যাওয়াটি রাশিয়ার জন্য একটি প্রতীকি পরাজয়। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন কিনা রাশিয়ার সৈন্যরা রাজধানী কিয়েভ সহ উত্তর ইউক্রেনের বেশিরভাগ এলাকা ছেড়ে চলে গিয়ে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে নতুন করে আক্রমণের জন্য পুনর্গঠিত হচ্ছে।