ইসলামাবাদ — সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তান সামরিক অভিযান শুরু করলে, কয়েক ডজন বেসামরিক লোক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেছে তালিবান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় তালিবান কর্মকর্তারা ভিওএ-কে নিশ্চিত করেছেন, শনিবার পাকিস্তানি জেট বিমানগুলি সীমান্ত প্রদেশ খোস্তের বেশ কয়েকটি গ্রামে বোমাবর্ষণ করেছে। এতে "নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন বেসামরিক লোক" নিহত হয়।
তবে দাবিগুলি নিরপেক্ষ সূত্র দ্বারা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি। শনিবার খোস্তের শত শত বাসিন্দা মারাত্মক বিমান হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে, "পাকিস্তান নিপাত যাক" বলে স্লোগান দিতে থাকে।
পৃথকভাবে, পার্শ্ববর্তী কুনার প্রদেশের তালিবান কর্মকর্তারা শুলতান জেলার বেসামরিক এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানি সৈন্যরা রাতভর আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলি করে বলে খবর দিয়েছে।
প্রাদেশিক সরকারের একজন মুখপাত্র, মাওলাভি নাজিবুল্লাহ ভিওএ-কে বলেন, গোলাগুলিতে শুলতান জেলার অন্তত ছয়জন বাসিন্দা নিহত হয়। তবে তিনি কুনারে পাকিস্তানি বিমান হামলার খবরটি নিশ্চিত করেননি।
কর্মকর্তারা বলেছেন, পাকিস্তানের ওই সামরিক পদক্ষেপের ফলে, তালিবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মনসুর আহমেদ খানকে শনিবার তার অফিসে জরুরি তলব করেন এবং তাকে তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে "কড়া প্রতিবাদ" জানানো হয়।
মুত্তাকির কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, "আফগান পক্ষ খোস্ত এবং কুনার প্রদেশে সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা তীব্র করেছে, সেই সাথে এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জোরদার প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে।"
তবে পাকিস্তানের অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
পরে তালিবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ, এক বিবৃতিতে রাজনৈতিক উপায়ে দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
আফগানিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলগুলি নিষিদ্ধ পাকিস্তানি তালিবান জঙ্গি সংগঠন টিটিপি’র পলাতক নেতা এবং যোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। টিটিপি জঙ্গিরা এর আগে পাকিস্তানে মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলা চালায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ওয়াজিরিস্তান এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে টিটিপি ঘাঁটিগুলির বিরুদ্ধে বড় আক্রমণ চালিয়েছে, এতে করে হাজার হাজার জঙ্গি আফগানিস্তানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে৷ পাকিস্তানের ওইসব আক্রমণের ফলে দেশটিতে সন্ত্রাসবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, কিন্তু আট মাস আগে কাবুলে তালিবানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর টিটিপি-এর নেতৃত্বে জঙ্গি সহিংসতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।