হোয়াইট হাউজ ইঙ্গিত দিয়েছে, জি২০-তে এই বছরের সভাপতিত্বকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া বালিতে অনুষ্ঠিতব্য নভেম্বরের শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়—যদি না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সমাবেশ থেকে বাদ দেওয়া হয়।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা যতদূর বুঝেছি, আপনারা ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে এটি নিশ্চিত করতে পারেন, যেমন আমরা তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছি, যে তারা হামলার আগেই তাদের [রাশিয়া] আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। … আমরা আমাদের মতামত জানিয়েছি যে, আমরা মনে করি না যে, তাদের [রাশিয়া] সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা উচিত”।
এর আগে শুক্রবার, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকিকে অর্থনৈতিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
উইডোডো একটি ভিডিও বার্তায় জেলেন্সকিকে আমন্ত্রণের যৌক্তিক দিক উল্লেখ করে বলেন, “আমরা বুঝতে পারি যে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে জি২০ একটি অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: কোভিড সংক্রমণ ও ইউক্রেনের যুদ্ধ”।
উইডোডো বলেছেন যে, তিনি বুধবার জেলেন্সকির সঙ্গে একটি ফোনালাপের সময় তাকে আমন্ত্রণ জানান। এই সময় উইডোডো অস্ত্র প্রদানের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তবে তিনি ইউক্রেনে মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি বলেছেন যে, তিনি বৃহস্পতিবার পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
“ইন্দোনেশিয়া জি২০–কে সংঘবদ্ধ করতে চায়”, উইডোডো বলেছেন। “শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বৃদ্ধির চাবিকাঠি”।
বিশ্বের ২০টি বৃহত্তম অর্থনীতিক জোট থেকে রাশিয়াকে বের করে দেওয়ার জন্য পশ্চিমা নেতাদের দাবি বেশ কঠিন হতে পারে। অন্য অনেকের মধ্যে বাইডেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন শীর্ষ সম্মেলনে পুতিনের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং পুতিন সেখানে থাকলে তারা যোগ দেবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
[ইভা মাজরিভা ও ভার্জিনিয়া গুনাওয়ান এই প্রতিবেদনে সহায়তা করেছেন]