বাংলাদেশে রবিবার নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে রবীন্দ্রজয়ন্তী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি একজন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক ছিলেন। ছবি-এপি

করোনা মহামারির জন্য দুই বছর নীরবে উদযাপনের পর বাংলাদেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রবিবার (৮ মে) নোবেল বিজয়ী বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হবে।

রবীন্দ্রনাথের রচনাসম্ভার বিপুল ও বৈচিত্র্যময়। সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই ছিল তার উজ্জ্বল উপস্থিতি। বিস্ময়কর সৃজনী প্রতিভা দিয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্যকে। তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নাটক, সংগীত, শিশুতোষ রচনা বাংলা সাহিত্যের অমর সংযোজন। স্বকীয় নান্দনিক ভাবনায় তিনি সমৃদ্ধ করেছেন চিত্রকলাকেও। বাঙালির মহান মুক্তিসংগ্রামে রবীন্দ্রনাথের গান জুগিয়েছে প্রেরণা। তার লেখা গান আমাদের জাতীয় সংগীত।

১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলির জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জেতার পর তিনি এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী হন।

রবীন্দ্রনাথ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ে উপন্যাস, ছোটগল্প, গান, নাটক এবং প্রবন্ধ লিখেছেন। গীতাঞ্জলি, গোরা এবং ঘরে-বাইরে, চোখের বালি তার বিখ্যাত রচনাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আবদুল হামিদ জন্মবার্ষিকী উদযাপনের জন্য পরিকল্পনা করা সকল অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করে বলেন, “পঁচিশে বৈশাখের আহ্বান যেন প্রতিটি বাঙালির হৃদয় স্পর্শ করে”।

শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বকবির জীবন দর্শন ও তার সৃষ্টি বাঙালিদের চিরকাল শোষণ-বঞ্চনামুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে অনুপ্রাণিত করবে”।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার রবীন্দ্রনাথের জীবন ও কর্ম তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

প্রতি বছরের মতো, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ঠাকুরের জীবন ও কর্মের ওপর পারফরম্যান্স এবং বক্তব্যের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা দেবীর ১৩ জন জীবিত সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন।