মারিউপোল দখলের দাবি রাশিয়ার, পূর্বাঞ্চলে আক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি

ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত চলাকালে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের মারিউপোল বন্দরনগরীতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এক ভবনের পাশ দিয়ে একজন স্থানীয় বাসিন্দা হেঁটে যাচ্ছেন, ২০ মে ২০২২।

রাশিয়া শুক্রবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের মারিউপোল বন্দরনগরী দখলের দাবি করেছে। ঐ শহরের ইস্পাত কারখানায় অবস্থানরত ইউক্রেনের অবশিষ্ট যোদ্ধারা আত্মসমর্পণ করার পর এ দাবি করলো রাশিয়া।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্গেই শোইগু প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানান যে, অ্যাজভস্টল ইস্পাত কারখানা এবং ঐ শহর, উভয়কেই “সম্পূর্ণরুপে মুক্ত” করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

তবে, ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি যে, মারিউপোল পুরোপুরি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে।

এই বন্দরনগরী যুদ্ধের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অবরোধের শিকার হয়। রুশ বাহিনী প্রায় তিনমাস ধরে এই শহরে বোমাবর্ষণ করে। মারিউপোলের বেশিরভাগ এলাকাই ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ২০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ সেখানে নিহত হয়েছেন।

অপরদিকে, শুক্রবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে আক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে রাশিয়া। ডনেটস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে কামান, রকেট লঞ্চার এবং বিমান ব্যবহার করে হামলা চালানো হচ্ছে। এর ফলে, আবাসিক এলাকাগুলোতে বাড়িঘর ধ্বংস হচ্ছে এবং বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে, ইউক্রেনের বেসামরিক এবং সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ডনবাসের পরিস্থিতিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি “নরক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঐ অঞ্চলের মধ্যেই লুহানস্ক ও ডনেটস্ক অবস্থিত। জেলেন্সকি আরও বলেন যে, রাশিয়ার আক্রমণের ফলে ঐ অঞ্চল “বিধ্বস্ত” হয়ে গিয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রুশ বাহিনী যত বেশি সম্ভব ইউক্রেনীয়দের হত্যা করার এবং যথাসম্ভব বেশি ক্ষয়ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করছে।

ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের গভর্নর, সার্হেই হাইদাই টেলিগ্রামে জানান যে, শুক্রবার সেভেরোডনেটস্ক শহরের এক বিদ্যালয়ে, রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, বিদ্যালয়টিকে একটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেখানে ২০০ মানুষ আশ্রয় নিয়ে ছিলেন, যাদের মধ্যে শিশুরাও ছিল।