বিশ্বব্যাপী মাঙ্কিপক্সের ৭০০ রোগী, যুক্তরাষ্ট্রে ২১ জন, জানাল সিডিসি

ভারতের চেন্নাইয়ের আন্না আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের মাঙ্কিপক্সের লক্ষণের জন্য নিরীক্ষা করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা, ৩ জুন ২০২২।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) শুক্রবার জানায় যে, তারা বিশ্বব্যাপী মাঙ্কিপক্সের ৭০০ রোগী সনাক্ত হওয়া সম্পর্কে অবহিত রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ২১ জন রোগী রয়েছেন। তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে, রোগটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রথম ১৭ জনের মধ্যে ১৬ জন রোগীই এমন পুরুষ ছিলেন যারা অন্য পুরুষদের সাথে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হন। সিডিসি’র নতুন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে ১৪ জন রোগী ভ্রমণ করেছেন।

সকল রোগীই সেরে উঠছেন কিংবা ইতোমধ্যেই সেরে উঠেছেন। কোন রোগীরই মৃত্যু হয়নি।

সিডিসি’র ডিভিশন অফ হাই কনসিকুয়েন্স প্যাথোজেন্স অ্যান্ড প্যাথোলজির সহকারি পরিচালক, জেনিফার ম্যাককুইসটন, সংবাদদাতাদের টেলিফোনে জানান, “যুক্তরাষ্ট্রে এমন কিছু রোগী আছেন যারা অন্যান্য সনাক্ত হওয়া রোগীদের সাথে সম্পর্কিত বলে আমরা জানতে পেরেছি।

যুক্তরাষ্ট্রে একজন রোগী এমনও আছেন যিনি ভ্রমণ করেননি এবং কিভাবে সংক্রমিত হয়েছেন তা জানেন না।”

মাঙ্কিপক্স এক বিরল রোগ। এটি গুটিবসন্তের সাথে সম্পর্কিত তবে তার থেকে কম তীব্র। মাঙ্কিপক্সের ফলে চামড়ায় ফুসকুড়ি হয়ে তা ছড়িয়ে পড়ে, জ্বর আসে, শরীর কাঁপুনি দেয় এবং ব্যথা হয়। এছাড়াও অন্যান্য লক্ষণও দেখা যায়।

রোগটি সাধারণত পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে, মে মাস থেকে তা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায় এবং তখন থেকে অন্যান্য দেশেও রোগটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

কানাডাও শুক্রবার তাদের দেশের নতুন রোগীর সংখ্যা প্রকাশ করেছে। তাদের দেশে ৭৭ জন রোগী সনাক্ত নিশ্চিত করা হয়েছে। সনাক্তদের প্রায় সকলেই কুবেক প্রদেশের। সেখানে টিকা সরবরাহ করা হয়েছে।

রোগাক্রান্ত ব্যক্তির চামড়ার সমস্ত ফুসকুড়ি শুকিয়ে গিয়ে সেখানে নতুন চামড়া না উঠা পর্যন্ত তিনি সংক্রমণ ছড়াতে পারেন।