মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ, রোগের নাম বদল বিষয়ে ডব্লিউএইচও’র সভা

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এর প্রকাশিত ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে ২০০৩ সালে তোলা এই ছবিতে পূর্ণতাপ্রাপ্ত ডিম্বাকৃতির (বামে) এবং গোলাকৃতির অপূর্ণ নিষ্ক্রিয় মাঙ্কিপক্স ভাইরাস (ডানে)। (ফাইল ফটো)

এই বছর মাঙ্কিপক্সে ১,৬০০ এরও বেশি রোগীর সংক্রমণ নিশ্চিত এবং প্রায় ১,৫০০ রোগীর সংক্রমণ নিয়ে সন্দেহ করা হয়। ইতোপূর্বেই অনেক বছর ধরে সংক্রমণ সনাক্ত হয়ে আসা সাতটি দেশ ছাড়াও নতুন ৩২টি দেশে এসব রোগী সনাক্ত করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ড. টেডরস আধানম ঘেবরেয়সাস এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ইউরোপে ডব্লিউএইচও’র আঞ্চলিক পরিচালক, ড. হ্যান্স হেনরি পি. ক্লুগ বলেন, “বিশ্বের মোট রোগীর ৮৫% নিয়ে ইউরোপ সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।”

আগামী সপ্তাহে এক জরুরি সভা আহ্বান করেছে ডব্লিউএইচও। ঐ সভায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং রোগটির নাম বদল করা উচিৎ কিনা, সেই বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

ভিরোলজিক্যাল ডট কম এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে একদল বিজ্ঞানী বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে, এই ভাইরাসকে অব্যাহতভাবে আফ্রিকার বলে সম্বোধন করা এবং পরিভাষার এমন ব্যবহার শুধুমাত্র ভুলই নয়, বরং বৈষম্যমূলক ও কলঙ্কজনক। এর সবচেয়ে স্পষ্ট প্রকাশ হল, বৈশ্বিক উত্তরের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলিতে এই বসন্তের ক্ষত দেখানোর জন্য আফ্রিকার রোগীদের ছবি ব্যবহার করা। সাম্প্রতিক সময়ে, আফ্রিকার ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতি প্রকাশ করে বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমগুলিকে অনুরোধ করেছে, যাতে তারা ইউরোপের সংক্রমণের বিষয় উল্লেখ করতে আফ্রিকার মানুষদের ছবি ব্যবহার না করে।”

ডব্লিউএইচও’র এক বর্ণনা অনুযায়ী, মাঙ্কিপক্স “একটি জুওনোসিস: এমন রোগ যা কিনা প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।”

মানুষের থেকে মানুষে সংক্রমণ সীমিত বলে ডব্লিউএইচও’র তথ্য থেকে জানা যায়। তবে “শরীর হতে নির্গত তরল পদার্থের সংস্পর্শ, চামড়ার ক্ষত বা দেহের অভ্যন্তরীণ শ্লেষ্মা নির্গতকারী স্থান যেমন মুখ বা গলা, নিঃশ্বাসের সাথে নির্গত কণা এবং জীবাণু লেগে থাকা বস্তুর মাধ্যমে” রোগটি সংক্রমিত হতে পারে।