ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রবিবার জানিয়েছে যে, তেহরান মহাকাশের উদ্দেশ্যে একটি রকেট উৎক্ষেপণ করেছে। বিশ্বশক্তিগুলোর সাথে ইরানের প্রায় ভেঙে পড়া পরমাণু চুক্তি বিষয়ে থমকে থাকা আলোচনাটি, পুনরায় আরম্ভ হওয়ার সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তেহরানের এমন পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের তিরস্কারের শিকার হয়েছে।
এটি পুরোপুরি পরিষ্কার নয় যে, কখন বা কোথা থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। তবে, ইরানের গ্রামীণ সেমনান প্রদেশের ইমাম খোমেনি মহাকাশ কেন্দ্রে প্রস্তুতি গ্রহণের ছবি প্রকাশ পাওয়ার পরই এমন ঘোষণা আসল। ঐ মহাকাশকেন্দ্র থেকেই ইরান ঘনঘন ও ব্যর্থভাবে মহাকাশের কক্ষপথে একটি উপগ্রহ স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে।
রাষ্ট্র পরিচালিত গণমাধ্যম, রকেট উৎক্ষেপণের নাটকীয় ফুটেজ প্রকাশ করে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে বর্ধিত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটল। ক্রমেই হ্রাস হতে থাকা আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যে ঐ কর্মসূচিটি জোরালো গতিতে এগিয়ে চলছে।
ইতোপূর্বে ইরান স্বীকার করেছিল যে, তারা উপগ্রহ বহনকারী তাদের এই রকেটের আরও পরীক্ষা চালাবে। দেশটি গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার এমন রকেট উৎক্ষেপণ করে।
হোয়াইট হাউজ জানায় যে, তারা ইরানের ঘোষণা সম্পর্কে অবগত রয়েছে। এমন পদক্ষেপকে “অসহায়ক ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী” হিসেবে আখ্যায়িত করে তার সমালোচনা করেছে হোয়াইট হাউজ। তারা এও জানায় যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আরও অগ্রসর হওয়া থেকে বাধা দিতে নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নিতেও তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান, ইয়োসেপ বোরেল, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টায়, তেহরান সফরে যাওয়ার মাত্র একদিন পরই রকেট উৎক্ষেপণের ঘটনাটি ঘটল। আলোচনাটি কয়েকমাস ধরে থমকে রয়েছে। আলোচনার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বাধা হয়ে দাড়িয়ে আছে। এর মধ্যে একটি হল, ইরানের আধাসামরিক রেভোলিউশনারি গার্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে অপসারণ করার ইরানের দাবি।