আইএফসি ও ব্র্যাক ব্যাংকের অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে প্রথম হাউজিং বন্ড চালু হচ্ছে

ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও ব্র্যাক ব্যাংকের অংশীদারিত্বে বাংলাদেশের প্রথম হাউজিং বন্ড চালু হচ্ছে। সোমবার (৪ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের হাজার হাজার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের শহর ও গ্রামীণ পবিবার, অনেক ক্ষেত্রেই বাণিজ্যিক ব্যাংকের সেবা পায় না। প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, এই জনগোষ্ঠি, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) বিনিয়োগে, বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংক যে বন্ড চালু করতে যাচ্ছে, সেখান থেকে সাশ্রয়ী গৃহায়ন ঋণ বা হাউজিং লোন নিতে সক্ষম হবেন।”

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “আইএফসি, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো, ব্রাক ব্যাংকের দ্বারা পাঁচ কোটি ডলার পর্যন্ত মূল্যমানের টাকা, ডিনোমিনেটেড পাঁচ বছরের সিনিয়র বন্ডের সাবস্ক্রিপশন করবে এবং সংস্থাটির সাশ্রয়ী হাউজিং ফাইন্যান্স কর্মসূচির সম্প্রসারণ ঘটাবে। এই উদ্যোগের ফলে, নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যায়।”

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, “২০০১ সালে আমাদের প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করছে। যেখানে আমাদের লক্ষ্য, বঞ্চিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন-প্রাপ্তি সহজ করা। আমরা আইএফসি’র সঙ্গে মিলে উপলব্ধি করেছি যে, স্বল্প এবং মধ্যম আয়ের অনেক উর্পাজনকারী আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল পান না। এখন আধা-শহরে বা সেমি-আরবান এলাকার মানুষও আমাদের সাশ্রয়ী মূল্যের হোম মর্টগেজ সুবিধার মাধ্যমে একটি বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।”

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারিভাবে হাউজিং বন্ড ইস্যু করার মধ্য দিয়ে, বিনিয়োগকারী হিসেবে আইএফসি, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ড বাজারের ব্যাপকতা আনতে সহায়তা করবে। এই উপখাতটি এখনও অনুন্নত রয়ে গেছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের একটি উদ্যোগ হলো, ‘জয়েন্ট ক্যাপিটাল মার্কেটস প্রোগ্রাম (জে-ক্যাপ)’ ঋণ। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রকল্পটিতে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এই উদ্যোগ সমর্থন দিয়েছে। জে-ক্যাপের প্রচেষ্টায় সংযুক্ত হয়ে, আইএফসির এ উদ্যোগ বাংলাদেশে প্রথম হাউজিং ফাইন্যান্স বন্ডের গঠন ও ভিত্তি স্থাপনে ব্র্যাক ব্যাংককে সহায়তা দিচ্ছে। এই বিনিয়োগ ইউএস ডলার ও টাকায়, ক্রস-কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ সুবিধা দিতে; ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) প্রাইভেট সেক্টর উইন্ডোর (আইএফসি) স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ দেয়ার সুবিধা দ্বারা সমর্থিত।

আইএফসির আঞ্চলিক পরিচালক (ফাইন্যান্সিয়াল ইনষ্টিটিউশনস গ্রুপ, এশিয়া এন্ড প্যাসিফিক) আলেন ফরলেমু বলেন, “এই উদ্ভাবনী সমঝোতা অভ্যন্তরীণ র্দীঘমেয়াদী বন্ড বাজারের উন্নয়নে একটি গুরুত্বর্পূণ মাইলফলক। এটি স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের সাশ্রয়ী মূল্যের গৃহায়ন অর্থায়ন পাওয়ার তীব্র সঙ্কট মেটানোর প্রথম ও একমাত্র উদ্যোগ; যা বাংলাদেশের জন্য বহুবিধ সুবিধা বয়ে আনবে। এছাড়া, এটি গৃহায়ন অর্থায়নের জন্য স্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারীর অনশোর স্থানীয় মুদ্রায় বিনিয়োগ পরিকল্পনা। এ উদ্যোগ নতুন বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থানীয় করপোরেট বন্ড বাজারে, এ ধরনের বিষয়ভিত্তিক বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে।”

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের শহরগুলোতে আনুমানিক ৮০ শতাংশ মানুষ সারাজীবন ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। যার কারণ প্রধানত মর্টগেজ ফাইন্যান্স বা বন্ধকী অর্থায়নের অভাব। বাংলাদেশের ঋণ বাজারের মাত্র তিন শতাংশ গৃহ বন্ধক ঋণ; এই ঋণের দক্ষিণ এশিয়ার গড় চার দশমিক ৯ শতাংশ এবং উদীয়মান বাজারের গড় আট দশমিক ৯ শতাংশের নিচে। বেশিরভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠান উচ্চ আয়ের লোকদের গৃহায়ন ঋণ প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেয়। যেখানে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আনুষ্ঠানিক গৃহায়ন ঋণের সুযোগ খুবই সীমিত। এ কারণে, একদিকে প্রিমিয়াম বা উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য হাউজিং উদ্বৃত্ত; অন্যদিকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য গৃহায়ন অর্থায়ন এবং আবাসন ইউনিটের স্বল্পতা রয়ে গেছে।