বিদ্যুত ঘাটতির কারণে অফিসের সময় পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে: জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী

বাংলাদেশে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য নির্দিষ্ট দিনে বাড়ি থেকে কাজ করার নিয়ম চালু করার পাশাপাশি, অফিসের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্ত সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এ কথা জানান।

ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, “আমরা সরকারকে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত অফিসের সময় পুনঃনির্ধারণ করার জন্য সুপারিশ করব এবং কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুই বা তিন দিন বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেব।” মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি। বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।”

জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বেশ কয়েকটি কঠোর ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “অফিস, বাজার ও মসজিদে এয়ার কন্ডিশনারের শীতলতার মাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা এবং বিদ্যুৎ খরচ ব্যবস্থাপনার জন্য ঈদের পর থেকে মার্কেট রাত ৮টায় বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে মেনে চলার সুপারিশ করা হবে। এছাড়া সন্ধ্যা ৭ থেকে ৮টা, এই এক ঘণ্টার মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে।”

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, “কোভিডের সময়ের মতোই সবাইকে সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। এখন আবার কোভিড বাড়ছে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে, আমরা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি বলে সবাইকে দায়িত্ববান হতে হবে।”

“এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে, দৈনিক লোডশেডিং ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে; জানান প্রধানমন্্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে একটি ন্যায়সঙ্গত নীতি অনুসরণ করতে বলেছেন। যাতে গ্রামীণ ও শহুরে এলাকার মানুষ ন্যায়সঙ্গত ভিত্তিতে বিদ্যুতবিহীন থাকে।

তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, “আমরা একটি পুস্তিকা মেনে চলার পুরানো অভ্যাসে ফিরে যাব; যুক্তিসঙ্গত উপায়ে লোডশেডিং করার জন্য যেটি ডিজাইন করা হয়েছিল। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে রামপাল, পায়রাসহ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে এবং ভারত থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেশে আসা শুরু হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।”

সারাদেশে ক্রমবর্ধমান লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা এ বৈঠক ডাকেন। উপদেষ্টার ব্রিফিংকালে জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব হোসেন ও বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।