ঈদযাত্রায় সড়কে গাড়ির চাপ, বাংলাদেশে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত

সড়ক দুর্ঘটনা

ঈদযাত্রায় গাড়ির চাপ বেড়েছে বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কে। এ কারণে সড়ক দুর্ঘটনাও বেড়েছে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায়। শনিবার (৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায়, পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির গাজীপুর, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা ও বগুড়া জেলায় এ দুর্ঘটনাগুলো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কুমিল্লায় শনিবার সকালে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেকিনগর গ্রামে বাসের ধাক্কায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন; বেকিনগরের আব্দুল হকের ছেলে রাসেল (৩০) ও শরিফুল ইসলাম (৩০) এবং শাহজালালের ছেলে তাশফি আহমেদ (১৮)।

কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল জানান, “সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী বাসটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।”

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাজেন্দ্রপুর-টোক সড়কে, শনিবার ভোররাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

চেওরাইট ইলুর মোড়ে, কিশোরগঞ্জগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে একটি বাস ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে চারজন আহত হয়।আহতদের মধ্যে, শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুইজন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নাল্লা বাজারে, শুক্রবার (৮ জুলাই) রাতে বাসের ধাক্কায় দুই ভাইবোনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন; জামালপুর জেলার সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (২২) ও মৃদুল (১৫), বজলু মিয়ার ছেলে হাসান (১৯) ও ভ্যানচালক বাবুল কর্মকার (৫০)।

ধনবাড়ী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আশিকুজ্জামান জানান,“ রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে জামালপুর থেকে ঢাকাগামী বাসটি তিন চাকার একটি ভ্যানে ধাক্কা দিলে, ভ্যান চালক ও আরোহী সাইফুল ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং অপর দুইজন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকরা তাদের একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার ভোরের দিকে, চিকিৎসাধীন অন্য একজনের মৃত্যু হয়।”

শুক্রবার (৮ জুলাই) রাতে, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে দ্রুতগামী বাসের নিচে চাপা পড়ে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছেন বগুড়ায়। নিহত সাকিব হাসান ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি-বগুড়ার (আইআইটিবি) ছাত্র এবং রফিকুল ইসলামের ছেলে।

শাহজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায়, বগুড়া থেকে ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সটি সাকিবের মোটর-বাইককে ধাক্কা দিলে, এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. একেএম বানিউল আলম বলেন, “নিহত সাকিব মোটরসাইকেলটির আরোহী ছিলেন। তার বন্ধু সানি আহমেদ এটি চালাচ্ছিলেন। ধাক্কায় দুজনেই বাইক থেকে পড়ে যান। কিন্তু সাকিব ওঠার আগেই তাকে যাত্রীবাহী বাস চাপা দেয়।”

বাসটিকে আটক করা হয়েছে বলে জানান শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. একেএম বানিউল আলম।