বিদেশে আমেরিকানদের অন্যায়ভাবে আটক রাখার বিরুদ্ধে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বাইডেন

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই মঙ্গলবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার লক্ষ্য বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যায়ভাবে আটক করা থেকে বিরত রাখতে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি প্রদান।

বেশ কিছুদিন ধরেই বাইডেন জিম্মি ও বন্দীদের পরিবারের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হয়েছেন।সম্প্রতি, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মাদকের অভিযোগে রাশিয়ায় আটক ডাব্লিউএনবিএ তারকা ব্রিটনি গ্রিনারের কারণে আবারও এই চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মোট কতজন নাগরিক বিদেশে আটক আছে তা নিয়ে কোনও সরকারী পরিসংখ্যান না পাওয়া গেলেও জেমস ডব্লিউ ফোলি লিগ্যাসি ফাউন্ডেশন (সিরিয়ায় অপহৃত এবং নিহত একজন আমেরিকান সাংবাদিকের নামে যার নামকরণ করা হয়েছে) বলেছে যে, প্রায় ১৮টি দেশে ৬০ জনেরও বেশি আমেরিকান নাগরিককে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে

কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য বৈরীপক্ষ ইরান , রাশিয়া ভেনেজুয়েলা ও চীনের হাতে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন একটি বিবৃতিতে বলেন, "এই নির্বাহী আদেশে কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে আমেরিকান নাগরিকদের অন্যায়ভাবে ধরে রাখার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের উপর আর্থিক ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ক্ষমতা দিয়েছে, আটককারীরা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক বা রাষ্ট্রীয় কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কিনা সেটা যাচাই করে দেখার ক্ষমতাও।"

নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসাবে, মঙ্গলবার মিয়ানমার, চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলা- এই ছয়টি দেশ এই সতর্কবার্তা পাবে।

প্রশাসনের সাথে ভিডিওতে আলোচনার পর আটককৃতদের পরিবারের একজন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আদেশটি ‘বর্তমান সমস্যাগুলি সমাধান করার চেয়ে ভবিষ্যতে প্রতিরোধের বিষয়ে বেশি উদ্বিগ্ন বলে মনে হচ্ছে।’

এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেরিন ট্রেভর রিডের মুক্তির পর বিদেশে আটক অন্যদের ক্ষেত্রেও তাদের স্বজনরা ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে বাইডেনের প্রতি জোরালো আহ্বা্ন জানান।

তিন বছর আটক রাখার পরে রাশিয়ার সাথে বন্দী বিনিময়ের অংশ হিসাবে রিডকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রুশ পাইলট কনস্টান্টিন ইয়ারোশেঙ্কোর কারাদণ্ডের সাজা রদ করেছেন বাইডেন।