জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বুধবার তার মন্ত্রীসভায় রদবদল করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীসভার কিছু সদস্যের বিতর্কিত গোষ্ঠী ইউনিফিকেশন চার্চের সাথে সম্পর্ক নিয়ে ক্রমবর্ধমান জন প্রতিক্রিয়ায় জনসমর্থনে মন্দা দেখা দেয়। ।
বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও আগে কিশিদা এই পরিবর্তন এনে তার নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি ক্ষমতায় আসার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে গির্জার সাথে আইনপ্রণেতাদের সম্পর্ক কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দায়বদ্ধতা হয়ে উঠেছে সেটাকেই তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
মন্ত্রীসভার পররাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রীর মত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তাদের পদে বহাল থাকছন। তবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের অপসারণ করা হয়, যাদের মধ্যে নিহত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ছোট ভাই, নোবুও কিশিও আছেন। তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ।
আবের সন্দেহভাজন হত্যাকারী গ্রুপটি বলেছে যে তার মা এই ইউনিফিকেশান চার্চের সদস্য ছিলেন এবং সেখানে দান করে দেউলিয়া হন এবং ঐ গোষ্ঠীকে তুলে ধরার জন্য তারা আবেকে দোষারোপ করে।
সর্বসাম্প্রতিক জরিপে, কিশিদার সমর্থন মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ৫৯% থেকে বর্তমানে ৪৬% এ নেমে আসে। সরকারী সম্প্রচারক এনএইচকে সোমবার জানায়, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তার এটিই সর্বনিম্ন রেটিং।
সব মিলিয়ে, গির্জার সাথে সম্পর্ক প্রকাশ করা সাত জন মন্ত্রীকে রদবদল করা হয়েছে।
বিতর্কিত ধর্মীয় গোষ্ঠীটি বুধবার বিদেশী মিডিয়ার সাথে ব্যতিক্রমী সংবাদ সম্মেলনের সময়ে তাদের স্থানীয় প্রধান, টমিহিরো তানাকা বলেছেন, গ্রুপটি সেই সদস্যদের কাছ থেকে কোন অনুদান চায় না যাদের সেই সামর্থ্য নেই।
কিন্তু মিনোরু তেরাদা, যিনি এই রদবদলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছেন, ইউনিফিকেশান চার্চ-অনুমোদিত একটি গোষ্ঠীকে অর্থ প্রদান করেছিলেন বলে আসাহি শিমবুন নামের দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তারা আরও বলেছে যে অর্থমন্ত্রী দায়শিরো ইয়ামাগিওয়া , যিনি তাঁর পদ বহাল থাকছেন, তিনি ও ঐ গির্জার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে অর্থ দিয়েছিলেন।
পত্রিকায় তেরাদাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, তিনি জানতেন না যে ঐ গোষ্ঠীর সঙ্গে ইউনিফিকেশান চার্চের সম্পর্ক রয়েছে।