ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের বিদেশী সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিত্বকারী একটি গ্রুপ মঙ্গলবার জানায়, গাজায় জঙ্গিবাদী হামাস শাসকরা সাম্প্রতিক সংঘাতের পর সাংবাদিকদের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পরে আবার তা বাতিল করে দেয়।
এ সপ্তাহের শুরুর দিকে, বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কাজ করছে যে সব ফিলিস্তিনি তাদেরকে হামাস পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে পাঠানো এক বার্তায় নতুন এই নিয়মের কথা জানানো হয়। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা যেন ভুলবশতঃ ফিলিস্তিনি রকেট হামলায় নিহত গাজাবাসীদের সম্পর্কে বা ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে কোন রিপোর্ট না করে এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার জন্য ইসরাইলকে দোষারোপ করে ।
দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্বকারী ফরেন প্রেস এসোসিয়েশন(এফপিএ) জানিয়েছে, গাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর এই নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে।
এফপিএ এক বিবৃতিতে বলেছে, 'এ ধরনের পদক্ষেপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি গাজায় আমাদের সহকর্মীদের নিরাপত্তার ওপর কঠোর, অগ্রহণযোগ্য ও অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করতো।‘
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের পরিচালক সালামা মারুফ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন " এ ধরনের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। আমরা গাজায় সব বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে স্বাগত জানাই এবং তাদের আসতে আহ্বান জানাই।”
দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসরাইল-ফিলিস্থিন সংঘাতে উভয় পক্ষই তাদের বক্তব্য আরোপ করার এবং নেতিবাচক কভারেজ সীমিত করার চেষ্টা করেছে। ইসরাইল মধ্য প্রাচ্যের একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে নিজেদের চিত্রিত করলেও কখনও কখনও কর্তৃপক্ষ সামরিক কার্যক্রম এবং দেশের পারমাণবিক কর্মসূচীতে মিডিয়ার প্রবেশ সীমিত করে দেয়।
এই সপ্তাহে হামাস বিদেশী মিডিয়ার মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করে । তারা তখন ইসরাইলের সাথে সর্বসাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান ঘটাচ্ছিল। সংঘাতের বিষয়টিকে প্রান্তিক অবস্থানে রাখার সিদ্ধান্তটি সম্ভবত ইসরাইলের সাথে অর্থনৈতিক বোঝাপড়া বজায় রাখার জন্য হামাসের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিফলিত করে ।
হামাস ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যমের জন্য কাজ করা বা তাদের সেবা প্রদানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইসরাইলি সম্প্রচারগুলোতে সাক্ষাৎকার দিতেও তাদের নিষেধ করা হয়।