চাকরি দেওয়ার নামে ‘প্রতারণা’: অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে মরদেহ রেখে এলাকাবাসীর অনশন

পঞ্চগড় জেলা সদরে প্রতারণায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে, প্রতারিত ব্যক্তির মরদেহ রেখে অনশন করছে এলাকাবাসী।

বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা সদরে চাকরির জন্য দেওয়া টাকা ফেরতসহ দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে প্রতারণায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে, প্রতারিত ব্যক্তির মরদেহ রেখে অনশন করছে এলাকাবাসী। এসময়, অভিযুক্তসহ পরিবারের লোকজন বাড়িতে ছিলেন না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাতমেরা ইউনিয়নের প্রধানপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের প্রধানপাড়া দাখিল মাদরাসার তৎকালীন সভাপতি হোটেল ব্যবসায়ী জুলফিকার আলম প্রধান দুই বছর আগে মাদরাসার লাইব্রেরিয়ান পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে, জাকিরুল ইসলামের বাবা দবিরুল ইসলাম প্রধানের কাছে থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা নেন।

দুই মাস আগে জুলফিকারের সভাপতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে টাকা ফেরত দিতে চাপ দেয় জাকিরুলের পরিবার। কিন্তু জুলফিকার কালক্ষেপন করতে থাকেন। ২৫ দিন আগে জাকিরুলের বাবা দবিরুল ইসলাম প্রধান আবারও জুলফিকারের কাছে টাকা ফেরত চাইলে, উল্টো তাকে লাঞ্ছিত করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।এর পর, বাড়ি গিয়েই দবিরুল স্ট্রোক-এ আক্রান্ত হন। গত ৭ আগস্ট দবিরুল আবারও স্ট্রোক-এ আক্রান্ত হলে তাকে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দবিরুলের মরদেহ জুলফিকারের বাড়িতে রেখে অনশন শুরু করেন।

এই বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত জুলফিকার আলম প্রধানের বাসায় গিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সাতমেরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে আলোচনা করে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, মরদেহ রেখে অনশনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গভীর রাতে উভয়পক্ষ বসে ছয় লাখ টাকা ফেরত দেয়া সাপেক্ষে বিষয়টি মীমাংসা হয়।