যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল,পূর্ব আফ্রিকার সবচেয়ে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কেনিয়ায় পৌছেছেন।প্রতিনিধি দলটি, দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং পরাজিত বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দেখা করবেন। কেনিয়ার সর্বশেষ নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে পরাজিত প্রার্থী আদালতে যেতে পারেন; এমন প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস প্রতিনিধি দল কেনিয়া গেল।
নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট কেনিয়াটার ডেপুটি প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বছর খানেক আগে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং নির্বাচনে কেনিয়াটা দীর্ঘদিনের বিরোধী দলীয় ব্যক্তিত্ব রাইলা ওডিঙ্গাকে সমর্থন করেন।
ওডিঙ্গা বলেছেন তার স্বল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য “সকল সাংবিধানিক এবং আইনি বিকল্প” খতিয়ে দেখছেন। সোমবারে রুটোর জয়ের ঘোষণার পর থেকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার জন্য ওডিঙ্গা শিবিরের হাতে এক সপ্তাহ সময় আছে। এরপর এ বিষয়ে রুল জারির জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাতে সময় থাকবে ১৪ দিন। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ইতিহাস থাকা কেনিয়ায়, ওডিঙ্গা তার সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কয়েক মিনিট আগে কেনিয়ার নির্বাচন কমিশন প্রকাশ্যে বিশৃঙ্খলভাবে বিভক্ত হয়ে যায়। এ সময় কমিশনাররা একে অপরের প্রতি অসদাচরণের জন্য অভিযুক্ত করেন। যে ৪ জন কমিশনার সোমবারের ফলাফল ঘোষণায় আপত্তি জানিয়েছিলেন, তাদেরকে গত বছর কেনিয়াটা নিয়োগ দিয়েছিলেন।
এই নির্বাচন দেশটির সর্বকালের সবচেয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন হিসেবে ব্যাপকভাবে অভিহিত হয়। এর পরও এমন বিভক্তি কেনিয়ার অনেকের জন্য একটি আঘাত হিসেবে এসেছে। এই নির্বাচনে, ৪৬ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল অনলাইনে পোস্ট করা হয়েছে, যাতে জনগণ তা অনুসরণ করতে পারে।
কেনিয়ার রাজনৈতিক রূপান্তর পূর্ব আফ্রিকা অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। কেননা, ইথিওপিয়ার টিগ্রায় সংঘাতের অবসানে এবং রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদোগ্যে কেনিয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক যোগে কাজ করছিলেন।