বড় রকমের হামলার পরেও মুসলিম বিদ্রোহীদের সাথে থাইল্যান্ডের শান্তি আলোচনা

একজন থাই কর্মকর্তা দক্ষিণ থাইল্যান্ডের পাত্তানি প্রদেশের একটি গ্যাস স্টেশনে আগুনে পুড়ে যাওয়া তেলের ট্যাঙ্কারের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। ১৭ আগস্ট, ২০২২।

এই সপ্তাহে থাইল্যান্ডের সুদূর দক্ষিণে যে সমন্বিত ও ধারাবাহিক ভাবে সহিংস হামলা হয়েছে তার ফলে মুসলিম বিদ্রোহীদের সাথে দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতির জন্য শান্তি আলোচনা বা আলাপ ভেঙে পড়বে না। বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড সরকারের প্রধান আলোচক একথা জানান।

থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী বলেছে, দেশটির ৩টি দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ পাত্তানি, নারাথিওয়াত এবং ইয়ালাজুড়ে ১৭টি স্থানে মঙ্গলবার গভীর রাতে এবং বুধবার ভোরে উপর্যুপরি বোমা হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে অগ্নিকাণ্ডের একটিতে একজন ২১ বছর বয়সী স্থানীয় ব্যক্তি নিহত হয়েছে এবং অন্য ৭ জন সামান্য আহত হয়েছে।

থাইল্যান্ডের মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বৃহত্তম বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল বৃহস্পতিবার তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং হামলার ফলে হওয়া প্রাণহানির জন্য ক্ষমা চেয়েছে।

বিআরএন এবং সরকারের শান্তি সংলাপ প্যানেলের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা শান্তি আলোচনার ব্যর্থতার পর সামান্য অগ্রগতি হলে, তার মধ্যেই সর্বসাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল এই হামলা সংঘটিত হয়। এই বছরের শুরুর দিকে মুসলিমদের জন্য পবিত্র মাস রমজানে সহিংসতার হার অনেক কমে যায়। এর সাথে আগে থেকে ব্যবস্থা করে রাখা একটি পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির কারণে উভয় পক্ষই একটি যৌথ প্রক্রিয়ায় যেকোনো অভিযোগ লঙ্ঘনের তদন্তের জন্য আরও টেকসই যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়।

বিদ্রোহীদের এবং স্থানীয় অধিকার গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, সরকার দক্ষিণের ঐতিহাসিক মালয় মুসলিম ঐতিহ্যকে দমন করতে চায়। এটি পাটানি সালতানাতের উত্তরাধিকার যেটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ১৯০৯ সালে সিয়ামের তৎকালীন রাজাকে প্রদান করেছিল। ২০০৪ সালে সর্বসাম্প্রতিক এই সহিংসতা শুরু হওয়ার পর এবং সরকার এই অঞ্চলে সামরিক আইন জারি করার পর থেকে দক্ষিণের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংঘটিত লড়াইয়ে ৭ হাজার ৩শ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।