সৌদি আরবের একটি আদালত ডক্টরেট অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীকে ৩৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। তাকে “গুজব” ছড়ানো ও ভিন্নমত রিটুইট করার জন্য এমন সাজা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার হাতে পাওয়া আদালতের নথিপত্র যাচাই করে এসব তথ্য জানা যায়। এই সিদ্ধান্তের প্রতি বিশ্বব্যাপী নিন্দা জ্ঞাপন বেড়েই চলেছে।
সালমা আল-শিহাব এর বিরুদ্ধে এমন শাস্তিকে, সক্রিয়কর্মী ও আইনজীবিরা সৌদি বিচারের মানদণ্ডেও বিস্ময়কর বলে বিবেচনা করছেন। আল-শিহাব দুই সন্তানের মা এবং ব্রিটেনের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক।
এখনও পর্যন্ত বিষয়টি স্বীকার না করলেও, ভিন্নমতের বিরুদ্ধে সৌদি যুবরাজ মোহামেদ বিন সালমানের দমন-পীড়নের মধ্যেই এমন রায় আসল। যদিও, তার সিদ্ধান্তেই এই অতিরক্ষণশীল দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি সহ অন্যান্য নিত্যনতুন স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
আল-শিহাবকে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে পারিবারিক অবকাশ যাপনের সময়ে আটক করা হয়। তার মাত্র কয়দিন পরই তার ব্রিটেনে ফিরে যাবার কথা ছিল। ওয়াশিংটন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ফ্রিডম ইনিশিয়েটিভ এসব তথ্য জানিয়েছে।
দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সংগ্রহ করা আদালতের ঐ নথিপত্রগুলোতে দেখা যায়, আল-শিহাব বিচারকদের জানান যে, তার মামলাটি আদালতে পাঠানোর আগেই তাকে ২৮৫ দিনেরও বেশি সময় কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।
ফ্রিডম ইনিশিয়েটিভ জানায় যে, আল-শিহাব সৌদি শিয়া মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক সদস্য। সৌদি শিয়া মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের বিরুদ্ধে সুন্নি-শাসিত এই দেশটিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়।
ফ্রিডম ইনিশিয়েটিভের সৌদি বিষয়ক ব্যবস্থাপক, বেথানি আল-হায়দারি বলেন, “সৌদি আরব বিশ্বের কাছে জোরগলায় বলেছে যে তারা নারী অধিকারের ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করছে এবং আইনী স্বাধীনতা তৈরি করছে, কিন্তু এই ঘৃণিত রায়ের ফলে কোন সন্দেহই নেই যে পরিস্থিতি শুধু খারাপই হয়ে চলেছে।”
আল-শিহাবের রায়টি যুক্তরাষ্ট্রেরও নজর কেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রক বুধবার বলে যে তারা “মামলাটি খতিয়ে দেখছে”।
পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, “নারী অধিকারের পক্ষে প্রবক্তা হওয়ার জন্য মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে কাজে লাগানো অপরাধ হওয়া উচিৎ না, এটা কখনোই অপরাধ হওয়া উচিৎ না।”