আসিয়ান বৈঠকে নিষিদ্ধ মিয়ানমার, জোটটির সমালোচনা করল সামরিক জান্তা

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে বক্তব্য রাখছেন মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মুখপাত্র ঝ্য মিন তুন, ২৩ মার্চ ২০২১ (ফাইল ফটো)।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের আঞ্চলিক বৈঠকগুলোতে মিয়ানমারের জেনারেলদের অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ায় মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্ব বুধবার আসিয়ানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। তারা আসিয়ানের বিরুদ্ধে “বাহ্যিক চাপে” মাথানত করার অভিযোগ তুলেছে।

অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) এর সদস্য দেশগুলো মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে নিন্দার পাহাড় গড়েছে। দেশগুলো বলছে যে, গত বছর ১০ সদস্যবিশিষ্ট এই জোটের সাথে সম্মত শান্তি পরিকল্পনায়, বাস্তব অগ্রগতি সাধিত করতে ব্যর্থ হয়েছে সামরিক জান্তা। ঐ পরিকল্পনার মধ্যে বিরোধীদের সাথে আলোচনায় বসা এবং সংঘাতের অবসান করারও কথা ছিল।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী গত বছর এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়। সে সময় থেকে তারা মারাত্মক বলপ্রয়োগ করে ভিন্নমত পোষণকারীদের দমন করে আসছে। সর্বসাম্প্রতিক ঘটনায় রাজনৈতিক সক্রিয়কর্মীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে এবং মিয়ানমারের সরকারবিরোধী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা অং সান সু চি-কে কারাবন্দি করে সামরিক জান্তা সমালোচনার মুখে পড়েছে।

মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক বৈঠকগুলোতে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আসিয়ান। জোটের কয়েক সদস্য গতমাসে বলে যে, শান্তি পরিকল্পনায় সামরিক জান্তা অগ্রগতি দেখাতে না পারলে, তারা ভবিষ্যতের পথচলা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে।

আসিয়ানের বৈঠকগুলোতে অরাজনৈতিক প্রতিনিধি পাঠানোর প্রস্তাব সামরিক জান্তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

জান্তার মুখপাত্র ঝ্য মিন তুন বুধবার এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “কোন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী আসন যদি খালি থাকে, তাহলে সেটিকে আসিয়ান সম্মেলন বলা উচিৎ নয়।” তিনি আরও বলেন যে, শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে মিয়ানমার।

তিনি দাবি করেন যে, কোন দেশের সার্বভৌম বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপ না করার আসিয়ানের নীতিটি “বাহ্যিক চাপের” মুখে পড়ে তারা নিজেরাই ভঙ্গ করছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।

আসিয়ানের বর্তমান মেয়াদে সভাপতিত্বকারী দেশ, কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রক এই অভিযোগের কোন জবাব দেয়নি।