সহায়তার প্রস্তাব দেওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে “মুখ বন্ধ রাখতে” বলল উত্তর কোরিয়া

৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখের এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এর ছোট বোন কিম ইয়ো জং (মাঝে) দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং-এ অবস্থিত জিনবু রেলস্টেশনে এসে পৌঁছাচ্ছেন। (ফাইল ফটো)

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এর ক্ষমতাশালী বোন কিম ইয়ো জং শুক্রবার বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের “নিজের মুখ বন্ধ রাখা” উচিৎ। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট, উত্তরের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে তাদেরকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার দক্ষিণ কোরিয়ার ইচ্ছার কথাটি পুনর্ব্যক্ত করলে, তার জবাবে ঐ মন্তব্য করেন ইয়ো জং।

এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার ঊর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তা এমন পরিকল্পনা বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করলেন, যেই পরিকল্পনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক-ইয়োল এক “দুঃসাহসী” পরিকল্পনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মে মাসে প্রথম পরিকল্পনাটি প্রস্তাব করা হয়। এরপর বুধবার, তার দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে, সুক-ইয়োল আবারও এই পরিকল্পনা বিষয়ে কথা বলেন।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা, কেসিএনএ কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে, কিম ইয়ো জং বলেন, “অর্থহীন কথাবার্তা না বলে বরং তিনি নিজের মুখ বন্ধ রাখলে সেটি তার ভাবমূর্তির জন্য আরও ভাল হত, কারণ তার বলার মত আর ভাল কিছু নেই।” ইয়ো জং বলেন যে, ইয়ুন “খুবই সরল ও এখনও শিশুসুলভ” কারণ তিনি ভেবেছেন যে তিনি অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার সম্ভ্রম ও পারমাণবিক অস্ত্র কিনতে পারবেন।

উত্তরের সাথে সম্পর্ক বিষয়ক দক্ষিণ কোরিয়ার ইউনিফিকেশন (একীভবন) মন্ত্রী, কিমের মন্তব্যগুলোকে “অত্যন্ত অসম্মানজনক ও কুরুচিপূর্ণ” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

যদিও ইয়ুন বলেছেন যে, উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধ করলে ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করলে তিনি তাদেরকে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে ইচ্ছুক, তবুও একইসাথে তিনি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও কাজ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অনেকদিন ধরে স্থগিত থাকা যৌথ সামরিক মহড়া পুনরায় আরম্ভ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এর মধ্যে আগামী সপ্তাহে মাঠ পর্যায়ে বড় পরিসরের মহড়া আরম্ভ হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এক মুখপাত্র বুধবার বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইয়ুনের নীতিগুলোকে সমর্থন করে। তবে, কিম বলেন, যৌথ মহড়াগুলো দেখায় যে মিত্রদের কূটনীতির কথাগুলো আন্তরিক নয়।