বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন কূপ ‘টবগী-১’ খনন শুরু করেছে পেট্রোবাংলা।নুতন এ কূপ খননের মাধ্যমে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওযা যাবে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স)।
রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি গ্যাজপ্রম ‘টবগী-০১’ কূপ খননের জন্য ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাজারে, অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাপেক্স স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য, বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে গ্যাজপ্রমকে নিয়োগ করেছে।
শুক্রবার (১৯ আগস্ট সকালে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নে নতুন এ কূপ খনন কাজের উদ্বোধন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মাহবুবর হোসেন। এসময় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ও বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
খনন কাজ উদ্বোধনের পর পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জানান, “দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ কূপটি তিন হাজার ৫০০ মিটার পর্যন্ত গভীরে খনন করা হবে। যে খনন কাজ শুরু হলো, তা থেকে প্রতিদিন ২ কোটি থেকে ২ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এই গ্যাস, সংকট পূরণে সহায়তা করবে।”
বাপেক্সের ব্যববস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, “গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এ কূপ খনন তার মধ্যে অন্যতম। খনন কাজের মধ্যদিয়ে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগিয়ে গেল।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাপেক্সে-এর নকশা ও লোকেশন অনুযায়ী রাশিয়ার গ্যাজপ্রম কূপ খনন কাজ পরিচালনা করছে। শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রে এর আগে চারটি কূপ ও শাজবাজপুর ইস্ট নামের আরও একটি কূপ খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ‘টবগী-০১’ ষষ্ঠ কূপ।
এর আগে ভোলা সদর উপজেলায়, ভোলা নর্থ নামের আরেকটি কূপ খনন করা হয়েছে। এরপর সদর উপজেলার ইলিশা এলাকাসহ আরও দুটি কূপ খনন করা হবে বলে বাপেক্স জানিয়েছে। এর মধ্যে, শাহবাজপুরের চারটি কূপ থেকে ভোলার বিদ্যুৎ প্লান্ট ও তিন হাজার গ্রাহককে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। শাহবাজপুর ও ভোলা নর্থ কূপে দেড় টিসিএফ গ্যাস মজুদ আছে; যা আরও বাড়বে বলে আশা বাপেক্সের।