উত্তাল বঙ্গোপসাগর থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরছেন জেলেরা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরছেন জেলেরা

চার দিন যেতে না যেতেই আবারও বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সাগর, বন্দর চ্যানেল ও নদী উত্তাল রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) রাত থেকে শনিবার (২০ আগস্ট) পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এর পরও, মোংলা বন্দরসহ উপকূলীয় এলাকায় তাপদাহ কমছে না। সাগর ও সুন্দরবন উপকূলে প্রচণ্ড বাতাস বইছে; দুর্যোগপুর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। এমন আবহাওয়ার মধ্যে সাগরে মাছ শিকারে নামতে পারছে না জেলেরা। যারা সগরে গিয়েছিলেন, তারা ফিরে আসছেন নিরাপদ আশ্রয়ে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ মজুমদার জানান, “শুক্রবার রাত থেকে দুবলার চরে ঝড় হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রচুর বৃষ্টিপাতও রয়েছে। শনিবার ভোর থেকে ঝড়-বৃষ্টি বাড়ছে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা দুবলার চরে আশ্রয় নিয়েছেন। চরের ভেদাখালী খালে ৫৪টি ট্রলার নিরাপদে ফিরে এসেছে।”

বৈরী আবহাওয়ায় সকাল থেকে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য ওঠানামা ও পরিবহনের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। নিম্নচাপের প্রভাবে খুলনায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও ঝড়ো হওয়া বইছে।

বন্দর সূত্র জানায়, “কয়েকদিন যাবত প্রচণ্ড তাপদাহে মোংলা বন্দরসহ উপকূলীয় এলাকার জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গত ১৩ আগস্ট সাগরে নিম্নচাপ কমে গেলে, তিন দিন প্রখর রোদে কাজ করতে বিপাকে পড়তে হয়েছে দিন মজুরদের। এখন বৈরী অবহাওয়ায়, দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে।”

বৈরী আবহাওয়া আর টানা বৃষ্টিতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে মোংলা সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া দুর্যোগপূর্ণ ও বৈরী আবহাওয়া শনিবারও অব্যহত আছে। সুন্দরবন উপকূল জুড়ে টানা প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

মোংলা বন্দর বার্থ শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, “বৃষ্টি হলে জাহাজের পণ্যের সুরক্ষায় কাজ বন্ধ রাখা হয়। বৃষ্টির সময় কাজ বন্ধ থাকছে, কমলে আবার শুরু হচ্ছে, এভাবেই কাজ চলছে।”

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ওয়াদুদ তরফদার বলেন, “আমরা আবহাওয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, বন্দরের কাজ কর্মও চলছে। আবহাওয়ার গতিবিধি বুঝে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।”