১০ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানির জন্য রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় তালিবান

২৭ শে এপ্রিল, ২০২২ তারিখে রাশিয়ার আলমেটয়েভস্কের কাছে ট্রান্সনেফট কামা অঞ্চলের কালেইকিনো তেল পাম্পিং স্টেশনের একটি স্টোরেজ ট্যাংকের পাশ দিয়ে শ্রমিকরা হেঁটে যাচ্ছে।

আফগানিস্তানের তালিবান সরকার বলছে, সম্ভবত কিশমিশ, ওষুধ ও খনিজ পদার্থের কাঁচামালের বিনিময়ে তারা রাশিয়ার সঙ্গে ১০ লাখ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির জন্য আলোচনা করছে।

তালিবানের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে মস্কোতে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বেসরকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করছে, যাতে পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করা যায় এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দক্ষিণ এশীয় দেশটিতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা যায়।

রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দর্শনার্থীরা গম ও সূর্যমুখীসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানির বিষয়েও আলোচনা করছেন।

প্রতিনিধিদলের প্রধান তালিবানের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী নুরিদ্দিন আজিজিকে উদ্ধৃত করে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে বলেন, কাবুলের জন্য ৪০ লক্ষ টনেরও বেশি তেল প্রয়োজন এবং এর কিছু ইতোমধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আমদানি করা হচ্ছে।

তিনি আরআইএ নভোস্তিকে বলেন, ‘‘যেহেতু রাশিয়া আমাদের জন্য একটি বন্ধুপ্রতীম দেশ, তাই আমরা এখানে এসেছি রাশিয়ার তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে। আমরা প্রায় দশ লক্ষ টন গ্যাসোলিন এবং ডিজেল জ্বালানী আমদানি করার পরিকল্পনা করছি।"

গত মাসে প্রতিবেশী দেশ ইরানের সঙ্গে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন তেল কেনার চুক্তি সম্পন্ন করে তালিবান।

আজিজি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। তিনি বলেন, ‘‘আফগানিস্তান এসব পণ্যের মূল্য নগদ অর্থ দিয়েও পরিশোধ করতে পারে।’’

লিথিয়ামসহ আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদে রুশ বিনিয়োগের অনুমতি তার সরকার দেবে কি না জানতে চাইলে আজিজি বলেন, ‘‘তালিবান জ্বালানি সম্পদের আমদানির বিনিময়ে রাশিয়াকে কিছু খনিজ সরবরাহ করতে পারে। আমাদের খুব ভাল এবং উচ্চ মানের লিথিয়াম আছে।’’

তালিবান মন্ত্রী বলেন কাবুল এরই মধ্যে চীনের কারখানাগুলোতে কাঁচামাল সরবরাহ করছে এবং রাশিয়াকে কাঁচা মাল সরবরাহ করতে পারে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

এক বছর আগে পশ্চিমা সমর্থিত আফগান সরকারের কাছ থেকে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীটি ক্ষমতা দখল করার পর থেকে বেইজিংও তালিবানের সাথে সম্পর্ক জোরদার করে।