আল-শাবাবের বিরুদ্ধে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্টের 'সর্বাত্মক যুদ্ধের' অঙ্গীকার

২০২২ সালের ২১ আগস্ট মোগাদিশুতে আল-শাবাবের জঙ্গি হামলার পরে ঘটনাস্থলের দিকে তাকিয়ে আছেন বাসিন্দারা।

গত শুক্রবার, মোগাদিশুতে মারাত্মক হোটেল অবরোধের ঘটনায় কমপক্ষে ২১ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হবার পর, মঙ্গলবার রাতে টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে সোমালি প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ ঘোষণা করেন যে, তার সরকার আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী আল-শাবাবের বিরুদ্ধে "সর্বাত্মক যুদ্ধ" শুরু করবে।

মোহামুদ বলেন, শত্রুকে পরাজিত করার জন্য একত্রিত হওয়ার সময় এসেছে। তিনি জানান, সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানগুলিতে দেশের কিছু অংশ, যেমন, দক্ষিণ-পশ্চিম রাজ্যসহ কেন্দ্রীয় গালমুদুগ রাজ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

রাজধানীর হোটেল হায়াতের ওপর সর্বসাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে আলোচনা করতে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,তিনি জানেন, সন্ত্রাসীদের প্রতিটি আক্রমণে তাদের প্রিয়জনদের হারিয়ে সোমালির জনগণ অন্তহীন শোকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। দেশের শান্তির প্রতি বৈরী নির্মম সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আল-শাবাবের একমাত্র নীতি হচ্ছে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, ভয় দেখানো, অপমান করা এবং নৃশংসতা চালানো।

গত জুনে, আল-শাবাবের নেতা আবু উবাইদাহ যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করে প্রেসিডেন্টকে সোমালিয়ার রাজনীতিবিদদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম বলে অভিহিত করেন এবং বলেন যে আল-শাবাব নতুন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।

সংগঠনটি নিয়মিতই মোগাদিশুর বিভিন্ন হোটেল আর রেষ্টুরেন্ট গুলোকে হামলার লক্ষ্যে পরিণত করে, বিশেষ করে যেগুলোতে বিভিন্ন সোমালি কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সমবেত হন।

তারা আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এবং বেশ কয়েকজন বন্দুকধারী নিয়ে হোটেল হায়াতে হামলা চালায়। ৩০ ঘণ্টা ধরে চলা অভিযানের পর নিরাপত্তা বাহিনী হোটেলটিকে সন্ত্রাসী মুক্ত বলে ঘোষণা করে।