“শান্তিপূর্ণ উপায়ে” সমস্যা সমাধানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা একটি বাধা বলে দাবি তালিবানের

দোহায় অবস্থিত তালিবানের রাজনৈতিক দফতরের মুখপাত্র সুহেইল শাহীন, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলছেন, ২৮ মে ২০১৯। (ফাইল ফটো)

কূটনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তা করতে আফগানিস্তানের তালিবান তাদের কিছু কিছু নেতার উপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার অবসান করতে বৃহস্পতিবার আহ্বান জানিয়েছে। অপরদিকে, এই অব্যাহতি মঞ্জুর করার বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এখনও বিভক্ত হয়ে আছে।

১৩ জন তালিবান নেতার বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের দেওয়া অব্যাহতিটির মেয়াদ গত শুক্রবার শেষ হয়ে যায়। এই নেতাদের মধ্যে তালিবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকীও ছিলেন। এর আগে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো সম্ভাব্য মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে ব্যর্থ হয়।

কাতারে অবস্থিত তালিবানের রাজনৈতিক দফতরের প্রধান, সুহেইল শাহীন ভিওএ-কে বলেন, “ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাটি যোগাযোগ ও আলোচনার দরজা বন্ধ করে দেওয়ার সমতুল্য। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানের পথে এটি একটি বাধা।”

নিরাপত্তা পরিষদের ২০১১ সালের এক সিদ্ধান্ত মোতাবেক মোট ১৩৫ জন তালিবান কর্মকর্তা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সম্পদ জব্দ করা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। তবে, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থেকে ঐ ১৩ ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল, যাতে করে তারা অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের সাথে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। সেসব দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ নিয়মিতভাবে ঐ অব্যাহতির মেয়াদ বৃদ্ধি করে আসছিল।

তবে, অব্যাহতিটির মেয়াদ গত শুক্রবার শেষ হয়ে যায়। এর আগে পশ্চিমা দেশগুলো সেটির স্বয়ংক্রিয় নবায়নের বিষয়ে আপত্তি জানায় এই বলে যে, তালিবান নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল নারী সহ সকল আফগানের মানবাধিকার রক্ষা করা, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করা, এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা।

যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলো আরও স্বল্প সংখ্যক তালিবানকে ভ্রমণ অব্যাহতি দেওয়ার এবং তাদের ভ্রমণ কাতার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে মুত্তাকীর নেতৃত্বাধীন তালিবান প্রতিনিধিদলের সাথে আলোচনায় বসেছে।