পশ্চিম জিনজিয়াং অঞ্চলের বিষয়ে বৈশ্বিক মতামতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য চীনের প্রচেষ্টার বিষয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছেন উইঘুর সমপ্রদায়ের প্রবাসী সদস্যরা। তারা বলেছেন, বেইজিং-এর এই মনোভাব নতুন কিছু নয়।
বুধবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, উইঘুরের প্রতি বেইজিং-এর আচরণের সমালোচকদের চীন নিশ্চিহ্ন করতে চায়, কোনঠাসা করতে চায় এবং হয়রানি করতে চায়।
পিআরসি এফোরটস টু ম্যানিপুলেট গ্লোবাল পাবলিক ওপিনিয়ন অন জিনজিয়াং শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিং জিনজিয়াং নিয়ে যেকোন বৈশ্বিক আলোচনার উদ্যোগ-এ সক্রিযয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চায় এবং নিরপেক্ষ সূত্র থেকে পাওয়া যে কোন তথ্যকে অসম্মান করে।
অনেক পশ্চিমা সরকার এবং মানবাধিকার সংগঠন, ১০ লাখ তুর্কি -বংশোদ্ভুত মুসলমান,যাদের বেশিরভাগ উইঘুর, তাদের সংশোধনাগারে নিয়ে গণহত্যা,বলপূর্বক শ্রমে নিয়োগ এবং বিনা বিচারে আটক করা হচ্ছে বলে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।
চীন বারবার অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে এবং বলছে যে, স্থাপনাগুলো বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রশিক্ষণকেন্দ্র। সেগুলোর লক্ষ্য “প্রশিক্ষণার্থীদের” জঙ্গি হওয়া থেকে বিরত রাখা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক পূর্ব তুর্কিস্তান জাতীয় জাগরণ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং পূর্ব তুর্কিস্তান প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সালেহ হুদায়ারের মতে, চীনের অপতথ্য প্রচারণা শুধু জিনজিয়াংকে লক্ষ্য করে নয়, চীনের অন্যান্য অঞ্চলকে লক্ষ্য করেও তারা এটা করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানি, যেমন ইউটিউব এবং টুইটার রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টগুলোকে চিহ্নিত করা শুরু করেছে এবং চীন সরকারের সাথে সম্পর্কিত সন্দেহভাজন জাল অ্যাকাউন্টগুলো অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে।
হুদায়ার বলেছেন, আরও কিছু করা দরকার। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোকে চাপ দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বেইজিং যাতে এই ডিজিটাল আউটলেটগুলো ব্যবহার করে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাতে না পারে এবং চীনের সমালোচকদের যাতে সাইবার বুলিং-এর শিকারে পরিণত করতে না পারে, সে বিষয়ে যেন প্রতিষ্ঠানগুলো পদক্ষেপ নেয়।