পারমাণবিক চুক্তি সম্মেলন শেষের দিকে; আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ইউক্রেন

নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দফতরের সচিবালয় ভবনের বাইরে প্রদর্শিত জাতিসংঘের প্রতীক, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২। (ফাইল ফটো)

পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের তাৎপর্যপূর্ণ চুক্তিটি পর্যালোচনা বিষয়ক চার সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনের সমাপ্তির দিন শুক্রবার উপস্থিত প্রতিনিধিরা এক চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে উদ্যত হন, যাতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ ও ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দখলের ঘটনা বড় বাধা হয়ে দাড়ায়।

৫০ বছর ধরে বিদ্যমান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (নিউক্লিয়ার ননপ্রলিফারেশন ট্রিটি বা এনপিটি) পর্যালোচনা করতে সম্মেলনেটি আয়োজন করা হয়। চুক্তিটিকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবারের সম্মেলনের সভাপতি, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত গুসতাভো ঝ্লাউভিনেন ৩৬ পৃষ্ঠার একটি চূড়ান্ত নথির খসড়া উপস্থিত প্রতিনিধিদের মাঝে বিলি করেন। চীনের কিছু উদ্বেগ প্রশমনের চেষ্টা করা হয় ঐ নথিতে। তবে, নথিতে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ঝাপোরিঝিয়ায় অবস্থিত ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়া দখল করে নেওয়ার বিষয়ে, ঐ একই চারটি বিষয়ের প্রসঙ্গ টানা হয়, যদিও তাতে রাশিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি।

প্রস্তাবিত যে কোন নথিই, চুক্তি স্বাক্ষরকারী ১৯১টি দেশকেই অনুমোদন করতে হবে। সংশোধিত খসড়াটি বিবেচনা করার উদ্দেশ্যে সমাপনী পূর্ণাঙ্গ বৈঠকটি বিলম্বিত হয়, কারণ সকল দেশকে সম্মত করাতে প্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছিলেন।

এর আগে, এই সপ্তাহে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, লিন্ডা টমাস-গ্রীনফিল্ড নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছিলেন যে, বাইডেন প্রশাসন এমন এক সর্বসম্মত চূড়ান্ত নথি অনুমোদন করাতে ইচ্ছুক, যা পারমাণবিক চুক্তিটিকে শক্তিশালী করবে এবং “যেভাবে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ ও দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড গুরুতরভাবে এনপিটি’র মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে”, সেটিকে স্বীকার করবে।

\জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত, ভাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের ঐ বৈঠকে অভিযোগ করেন যে, ঐ দেশগুলো “চূড়ান্ত নথির কাজকে রাজনীতিকীকরণ করছে, (এবং) বৈশ্বিক নিরাপত্তা জোরদারের সামষ্টিক প্রয়োজনের চেয়ে রাশিয়াকে শাস্তি দেওয়ার তাদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।”