আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা যখন ইউক্রেনের বিপদগ্রস্ত ঝাপরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে এবং চারপাশে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। শনিবার আবারও এই স্থাপনার কাছাকাছি গোলাবর্ষনের সংবাদ পাওয়ার পর নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।
ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরকে দুষছে। রাষ্ট্র পরিচালিত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এনারগোএটম শনিবার বলেছে, রুশ সৈন্যরা সারাদিন ধরে এই স্থাপনায় “ লাগাতার গোলা বর্ষণ করেছে”।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থা-আইএইএ’, খুব শিগগির এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে একটি দল পাঠাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কিছু বিশেষ অংশে গুলির আঘাত লাগায়, কর্মকর্তারা তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিঃসরণের ঝুঁকি রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন।
ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের শুরুর সপ্তাগুলোতেই ঝাপোরিঝঝিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র রুশ সৈন্যরা দখল করে নেয়।আর তখন থেকেই এটি যুদ্ধের মুখে রয়েছে। ইউক্রেনের কর্মীরাই এই কেন্দ্রটি পরিচালনা করছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালক সংস্থা কর্মীদের নির্যাতন করা হচ্ছে বলে রুশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। মস্কো বলছে, তারা আইএইএ’র উদ্যোগে সমর্থন জানাচ্ছে। তবে তারা স্থাপনাটিকে অসামরিক অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সেনা প্রত্যাহারে অসম্মতি জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ঝাপরিঝঝিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের পরিস্থিতি ‘অনিশ্চিত ও বিপদজনক।’ বন্ধ থাকার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে আবার ইউক্রেনে সরবরাহ শুরু হলে তিনি এ কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার গোলার আঘাতে একটি বৈদ্যুতিক লাইনে আগুন ধরে যায় এবং সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ইউক্রেনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।
ইউক্রেন এখনও ১৯৮৬ সালে চেরনোবিলের দূর্ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনা ঐ দূর্ঘটনার মতো আরও একটি বিপর্যয়ের আশংকাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
রুশ দখলদারিত্বে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৪ মার্চ থেকে কর্মরত রয়েছেন এক প্রকৌশলী। তিনি ভিওএ-কে জানান, “রুশ বাহিনী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্পত্তির চারপাশে এবং ভেতরে কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করেছে।”
অন্য এক খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেন বলেছে, তাদের বাহিনী পূর্ব-দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাখমাত ও সোলেদার শহরে রুশ হামলা প্রতিহত করেছে। দক্ষিণের খেরসন অঞ্চলে গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার ও শত্রু সেনার ওপর হামলা করেছে বলেও দাবি করে কিয়েভ। তবে নিরপেক্ষ সূত্র থেকে এসব হামলার সত্যতা যাচাই করা যায়নি।