চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে যে সম্ভাব্য পরিবর্তন ঘটবে, তা মোকাবেলা করতে, এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের বিশাল শ্রমশক্তি আছে, যা এখানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দক্ষ জনশক্তি হয়ে উঠতে তাদের হতে হবে প্রশিক্ষিত, শিক্ষিত ও বিকশিত।”
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে, ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) জাতীয় সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়াল প্লাটফরমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “সরকার দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ, আঞ্চলিক সংযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চতুর্থ শিল্পবিপ্লব থেকে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে দক্ষতা উন্নয়নে কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কারণ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা খুবই জরুরি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মধ্যে নয়েছে; প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ এবং রোবোটিক্স-এর অগ্রগতি।”
শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে। দেশে তৈরি পোশাক খাতে ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট ও প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতেও শুরু হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে, তৈরি পোশাক শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ছে এবং একই সঙ্গে কাপড়ের মানও উন্নত হচ্ছে।”
কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। আমরা ইতোমধ্যে কিছু পরিবর্তন এনেছি। জনশক্তিকে মানবসম্পদে পরিণত করতে আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষায় ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।”