নারী শিক্ষায় অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে তালিবানের প্রতি জাতিসংঘ প্রধানের আহ্বান

গত বছর তালিবান ক্ষমতা দখলের পরও আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে খোলা থাকা এক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত আফগান মেয়েরা। ১১ আগস্ট, ২০২২।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস শুক্রবার আফগানিস্তানের তালিবান শাসকগোষ্ঠীর প্রতি, কিশোরীদের মাধ্যমিক শিক্ষা পুনরায় চালু করতে আবারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে, “মেয়েদের স্থান বিদ্যালয়ে”।

শুক্রবার দিনের শেষদিকে তিনি টুইটারে লেখেন, “আফগানিস্তানে মেয়েদের এখনও শ্রেণীকক্ষের বাইরে রাখা হয়েছে।”

ইসলামী এই গোষ্ঠীটি এক বছর আগে আবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে, আফগানিস্তানের বেশিরভাগ প্রদেশেই ষষ্ঠ শ্রেণীর উপরের ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরা নিষিদ্ধ করেছে। তালিবান এটিকে সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করলেও, আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে তারা এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গুতেরেস টুইটারে লেখেন, “এটি সমঅধিকারের অযৌক্তিক লঙ্ঘন, যা পুরো দেশটিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।মেয়েদের স্থান বিদ্যালয়ে।”

সমালোচকরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞাটি আফগানিস্তানের একটি পুরো প্রজন্মকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করেছে, যা স্কুলে যাওয়ার বয়সী মেয়ে ও তাদের পরিবারের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

এর আগে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকাকালীন, তালিবান মেয়েদের শিক্ষা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছিল।

তালিবান নেতারা নিজেদের নারী বিষয়ক নীতি ও নারীদের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোর পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেছেন যে, নীতিগুলো আফগান সংস্কৃতির পক্ষে ও শরীয়া আইনসম্মত। আর, সংস্কারের জন্য জানানো আন্তর্জাতিক আহ্বানকে তারা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ উল্লেখ করে, সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।