ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার, বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লার ঝুমন দাশ ওরফে আপনের (২৬) জামিন আবেদন অগ্রাহ্য করেছেন আদালত। রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) তার আইনজীবী পঙ্কজ তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী পঙ্কজ তালুকদার বলেন, “ঝুমন দাশ নিজের ফেসবুক আইডিতে উস্কানিমূলক পোস্ট দেয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার হন। এর ছয়দিনের মাথায় সুনামগঞ্জের বিচারিক হাকিম ইশরাত জাহানের আদালতে জামিন চাওয়া হয়। আদালত তার জামিন আবেদন অগ্রাহ্য করেন।”
পঙ্কজ তালুকদার আরও বলেন, “ঝুমন দাশের বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে। শাল্লা থানার পুলিশ তাকে গত ৩০ আগস্ট দুপুরে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তার বিরুদ্ধে শাল্লা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুমনুর রহমান বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। ঐ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরের দিন তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।”
আইনজীবী পঙ্কজ তালুকদার বলেন, “ঝুমন দাশ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে এর আগে একই থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত বছরের ২২ মার্চ আরেকটি মামলা করেছিল পুলিশ। ঐ মামলায় তিনি প্রায় ছয় মাস কারাগারে ছিলেন। মামলাটি এখন সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে রয়েছে।”
ঝুমন দাশকে গ্রেপ্তারের পর সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, “গত ২৮ আগস্ট বেলা তিনটায় ঝুমন দাশ নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি উস্কানিমূলক পোস্ট দেন। ঐ পোস্ট ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করে এবং এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।”
শাল্লা থানায় গত বুধবার সকালে ঝুমন দাশ তার জবানবন্দিতে বলেছেন, “২৮ আগস্ট তার ফেসবুক আইডিতে অন্য একজনের আইডি থেকে একটি পোস্ট আসে। তাতে সিরাজগঞ্জের একটি মন্দিরের গেটে একটি মসজিদের দানবাক্স লাগানো ছিল। এই পোস্ট পড়ে তিনি সেটি তার আইডি থেকে শেয়ার করেন। এরপর শুনতে পান, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।”
উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৭ মার্চ সকালে ঝুমন দাশের গ্রাম নোয়াগাঁওয়ে হামলা হয়। হামলার ঘটনার আগে ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শহরে আয়োজিত এক সমাবেশে মামুনুল বক্তব্য দেন। পরে মামুনুলকে নিয়ে নিজের ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেন বলে অভিযোগ ওঠে ঝুমনের বিরুদ্ধে।
১৬ মার্চ রাতে পুলিশ ঝুমনকে আটক করে। পরের দিন ১৭ মার্চ সকালে উপজেলার কাশিপুর, দিরাই উপজেলার নাসনি, সন্তোষপুর ও চন্ডিপুর গ্রামের মানুষ লাটিসোঁটা নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালায়। এ ঘটনার পর শাল্লা থানায় তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়।
অন্য মামলাটি হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। ঐ মামলায় তিনি প্রায় ছয় মাস জেল খাটার পর, হাইকোর্ট থেকে এক বছরের জন্য ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জামিন পান।