আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, বলছে আর্মেনিয়া

ভিডিও থেকে নেওয়া এই ছবিতে আজারবাইজানের সীমান্তে নিহত সার্ভিসম্যান শার্মিস্তান সাদিকভের শেষকৃত্যের সময় তার কফিন বহন করছেন অপর একজন সার্ভিসম্যান। (১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২)

আর্মেনিয়ার একজন কর্মকর্তা বুধবার জানিয়েছেন, সীমান্ত সংঘাতের জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করার পর আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে আর্মেনিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের সেক্রেটারি আরমেন গ্রিগোরিয়ান জানান, যুদ্ধবিরতি চালু হয়েছে। আজারবাইজানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আর্মেনিয়ার অনুরোধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আগামী বৃহস্পতিবার একটি অধিবেশনের আয়োজন করেছে, যেখানে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বুধবার জানিয়েছে, আজারবাইজানের সামরিক বাহিনী আর্মেনিয়ার অবকাশ যাপনের শহর জেরমুককে লক্ষ্য করে রাতভর কমব্যাট ড্রোন পাঠিয়েছে এবং সকালে নব উদ্যমে কামান ও মর্টারের গোলা বর্ষণ অব্যাহত রেখেছে।

ইতোমধ্যে আজারবাইজানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, আর্মেনিয়ার বাহিনী আজারবাইজানের বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল নাগর্নো-কারাবাখের কাছাকাছি অবস্থিত কালবাজার ও লাচিন জেলার সেনা অবস্থানের ওপর গোলাবর্ষণ করেছে।

আর্মেনিয়া দাবি করেছে, মঙ্গলবার দিনের প্রথম অংশে হওয়া যুদ্ধে তাদের পক্ষের অন্তত ৪৯ জন সেনা নিহত হয়েছেন। আজারবাইজান ৫০ জন সেনা হারানোর দাবি জানিয়েছে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ এই দুই দেশ কয়েক দশক ধরে নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। অঞ্চলটি আজারবাইজানের অংশ হলেও এটি ১৯৯৪ সালের বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে আর্মেনিয়া সমর্থিত জাতিগত বাহিনীর দখলে রয়েছে।

২০২০ সালে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের পর আজারবাইজান নাগর্নো-কারাবাখের বেশ কিছু অংশ পুনর্দখল করে নেয়। সে সময় রাশিয়ার মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটে।