বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীদের প্রতি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ টিকা গবেষণা ও উন্নয়নে আগ্রহী।”
শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কনফেডারেশন অফ ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রির(সিবিআই) সভাপতি ও চেলসির লর্ড করন বিলিমোরিয়া’র বাসভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এসময় লর্ড বিলিমোরিয়া যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পের সমর্থনে তার অব্যাহত কার্যক্রম সম্পর্কে শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের টিকা উন্নয়ন গবেষণা কার্যক্রমের প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই বিষয়ে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
লর্ড বিলিমোরিয়া বাংলাদেশের মৌলিক নীতি ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি পার্সি বংশোদ্ভূত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ব্যক্তি, যিনি যুক্তরাজ্যের হাউস অফ লর্ডসের সদস্য।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল ফরিদুন বিলিমোরিয়া’র অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জেনারেল ফরিদুন বিলিমোরিয়া লর্ড বিলিমোরিয়া’র প্রয়াত পিতা। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অনেকের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর হিসেবে লর্ড বিলিমোরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনাকে তার নিজের পছন্দের একটি বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রার চিত্র ও ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-বাস্তবায়নে করা কাজ সম্পর্কে লর্ডকে অবহিত করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বিলিমোরিয়া ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অংশীদারিত্বের সুযোগ কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তারা উভয়ই রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং প্রয়াত রাণীর অসাধারণ সেবা ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম উপস্থিত ছিলেন।
রাণীর স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখা উচিত
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,কমনওয়েলথের জন্য বহু বছর ধরে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের নিবেদিত সেবার স্মরণে সংস্থাটির অবশ্যই কিছু করা উচিত।
কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড-এর বাসভবনে তার সঙ্গে বৈঠককালে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত রাণীকে একজন ‘মাতৃতুল্য ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং রানীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত স্মৃতি স্মরণ করেছেন।
কমনওয়েলথ-এর প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতির জন্য রাণীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং কমনওয়েলথ প্রধান হিসেবে রাজা তৃতীয় চার্লস রাণীর উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে আস্থা প্রকাশ করেন মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড ।
চলতি বছরের জুনে রুয়ান্ডায় কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকে মহাসচিব হিসেবে পুননির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।
প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু বিকাশ, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই ও সহিংস চরমপন্থা মোকাবেলায় শেখ হাসিনার অবদানের প্রশংসা করেন।
তিনি আবারও কোভিড-১৯ মহামারী সফলভাবে মোকাবেলা করার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন যে কমনওয়েলথ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এই সঙ্কটের সময় তারা বেশি ভাল করেছে, যেগুলোর নেতৃত্বে নারীরা ছিলেন বা সিদ্ধান্ত প্রণয়নে নারীর অংশগ্রহণ ছিল।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে কমনওয়েলথ পরিবারের নারী নেতৃত্ব বিশ্বসভায় তুলে ধরার বিষয়ে মহাসচিবের দেয়া পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মত হয়েছেন। এছাড়া, তিনি আগামী বছর স্মারক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘শান্তির বছর’ ও ‘তারুণ্যের বছর’ পালন করতে কমনওয়েলথের সঙ্গে অংশীদার হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রকৃতি সংরক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কমনওয়েলথের ‘লিভিং ল্যান্ডস’ উদ্যোগে ভূমিকার রাখার আহ্বান জানান কমনওয়েলথ মহাসচিব। সংস্থাটির ‘ব্লু চার্টার’-এ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেয়ার কথাটিও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
কমনওয়েলথের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।