ইউক্রেনের দখল করা অঞ্চলগুলোতে রাশিয়ার সাজানো গণভোট শুরু হয়েছে। এই গণভোটে, ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে যে তাদের অঞ্চল রাশিয়ার অংশ হয়ে যাক, তারা তা চান কি-না।
শুক্রবার থেকে লুহানস্ক, খেরসন ও আংশিকভাবে রুশ দখলে থাকা ঝাপোরিঝঝিয়া ও ডনেটস্ক অঞ্চলে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
এই ভোটগ্রহণকে মূলত, এই অঞ্চলগুলোতে রুশ দখলদারিত্বকে যৌক্তিক করে তোলার অজুহাত হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় । পশ্চিমের দেশগুলো এই উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা (ওএসসিই) জানিয়েছে, ঐ অঞ্চলগুলোর গণভোট অবৈধ।
ওএসসিই এক বিবৃতিতে জানায়, “ ইউক্রেনের অঞ্চলে কোন নির্বাচন বা গণভোট অনুষ্ঠান বা ঘোষণা করতে পারে কেবল সেই বৈধ কর্তৃপক্ষ, যেটি জাতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড দ্বার স্বীকৃত। আর এ কারণেই ঐ পরিকল্পিত গণভোট বেআইনী গন্য হবে।”
শুক্রবারের ভোটের আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দেন যে, তিনি আরও ৩ লাখ সেনাকে ইউক্রেনের “বিশেষ সামরিক অভিযানে” নিয়োজিত করতে চান।
এ সপ্তাহে টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে পুতিন জানান, রাশিয়ার মাতৃভূমি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য রিজার্ভ বাহিনীর সেনা সদস্যদের মোতায়েন প্রয়োজন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইউক্রেনে পাল্টা আক্রমনে ইউক্রেনের সাফল্য আসার পর পুতিন এমন ঘোষণা দিলেন।
পুতিন জানান, পশ্চিমের দেশগুলো রাশিয়াকে দুর্বল ও ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। রাশিয়া ও জনগণকে রক্ষা করতে , তার দেশ “তাদের হাতে থাকা সব ধরণের উপায়” অবলম্বন করবে।
সেনা-সমাবেশের বিরুদ্ধে মস্কো ও অন্যান্য রুশ শহরের সড়কগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ ১৩০০ বিক্ষোভকারীকে প্রেপ্তার করে।
শুক্রবার ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানায়,“গত ৩ দিনে ইউক্রেনের বাহিনী খারকিভ ওবলাস্টের (প্রশাসনিক অঞ্চল) ওসকিল নদীর পূর্ব তীরের সেতু ও এর আশেপাশের কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করেছে। দক্ষিণে, ডনেটস্ক ওবলাস্টে ইউক্রেনের
বাহিনী লাইম্যান শহরে আক্রমণ শুরুর পর সেখানে লড়াই অব্যাহত রয়েছে সাইভেরস্কি ডনেটস নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত এই শহরটি রাশিয়া মে মাসে দখল করেছিল। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি এখনও জটিল অবস্থায় রয়েছে। তবে ইউক্রেন এখন রাশিয়ার যুদ্ধ-লক্ষ্যের জন্য অত্যাশ্যক ভূখন্ডের ওপর চাপ দিচ্ছে।