ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে গণভোট নিয়ে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিন্দাকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাকোচ করে দিয়েছেন। ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর ভাষ্যমতে এটি একটি প্রতারণার গণভোট।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার পর, শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সার্গে ল্যাভরফ বলেন, “যেই উন্মাদনা আমরা দেখছি তা অনেক কিছুই বলে দেয়”।
লুহানস্ক ও খেরসন প্রদেশ এবং আংশিকভাবে রুশ নিয়ন্ত্রিত ঝাপোরিঝিয়া ও ডনেটস্ক অঞ্চলে শুক্রবার ভোটগ্রহণ আরম্ভ হয়ে মঙ্গলবার সারাদিন চলবে। রাশিয়াতেও ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে ঐসব এলাকা থেকে আসা শরণার্থী ও বাসিন্দারা ভোট দিতে পারেন।
ইউক্রেনে কিছু কিছু স্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, ভোটারদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো সতর্ক করেছে যে, গণভোটটির উদ্দেশ্য হল অধিকৃত এলাকাগুলোকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা এবং এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে তারা এর প্রতি নিন্দা জানিয়েছে।
সার্গে ল্যাভরফ বলেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিন যেমনটি বলেছেন, আমরা এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলোর ফলাফলের প্রতি নিঃশর্তভাবে সম্মান প্রদর্শন করব।”
ইউক্রেন বলছে যে, তারা কখনোই তাদের কোন ভূখণ্ডের উপর রুশ নিয়ন্ত্রণ মেনে নিবে না এবং অনুরোধ করেছে যাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ পরিস্থিতির এমন অবনতি আলোচনা করতে মঙ্গলবার বৈঠক করে।
এই মাসের শুরুর দিকে এক পাল্টা আক্রমণে ইউক্রেন তাদের দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ এলাকা পুনর্দখল করে ফেলার পর দ্রুততার সাথে এই গণভোটের আয়োজন করা হয়।
পশ্চিমা কর্মকর্তারা শঙ্কিত যে, এই চারটি এলাকাকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সেসব এলাকা পুনর্দখলের অভিযানগুলোকে খোদ রাশিয়ার উপর আক্রমণ হিসেবে তুলে ধরতে পারে মস্কো। এমনকি সম্ভাব্যরূপে তেমন পরিস্থিতিকে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যৌক্তিকতা হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে।