কিউবায় সমলিঙ্গ বিবাহ বৈধ করা হয়েছে

কিউবার হাভানায় নতুন পরিবার বিধান বিষয়ে গণভোটের সময় একটি বুথ থেকে একজন ভোটার বের হয়ে আসছেন (২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২)

কিউবার নাগরিকরা এক যুগান্তকারী জাতীয় গণভোটে সমলিঙ্গের বিবাহ বৈধ করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশটি জাতীয় নির্বাচন কাউন্সিল সোমবার এ ঘোষণা দেয়।

রবিবারের গণভোটে ভোটাররা ১০০ পাতার নতুন এক পরিবার বিধান অনুমোদন করেছেন। এই বিধান শুধুমাত্র সমলিঙ্গের দম্পতিদের বিয়ে করে সন্তান দত্তক নেওয়ার অনুমতি দেয়নি, বরং সারোগেসির মাধ্যমে সন্তানধারনের অনুমতিও দেবে। এছাড়াও, এর মাধ্যমে বয়োবৃদ্ধ, শিশু ও নারীদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়গুলো আরও বিস্তৃত আকারে রক্ষিত হবে এবং এতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধেরও ব্যবস্থা থাকছে।

সোমবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এই বিধান পাস করার বিষয়টিতে আনন্দ প্রকাশ করে টুইট করেন, “ভালোবাসাই এখন আইন।“ প্রায় ৬৬ দশমিক ৯ শতাংশ ঐ পরিবার বিধানের পক্ষে এবং ৩৩ দশমিক ১ শতাংশ বিপক্ষে ভোট দেন।

নতুন এই আইনটি কিউবার জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই সমাজতান্ত্রিক দ্বীপটিতে ৬০ ও ৭০ এর দশকেও সমকামীদের নির্যাতন করে ওয়ার্ক ক্যাম্পে কাজ করতে পাঠানো হত। ১৯৭৯ সালে সমকামিতাকে আইনসিদ্ধ করা হলেও অদ্যবধি সমকামী সম্প্রদায়ের সদস্যরা বৈষম্যের শিকার হতেন।

কিউবার সমকামীদের অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত মানবাধিকার কর্মী ও সরকারের যৌথ সমর্থনে এই সংস্কার কর্মসূচীর বাস্তবায়ন হয়। সরকার একটি জনসংযোগ প্রচারণার মাধ্যমে এই আইনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলে। এই বিধানের স্বপক্ষে দেশজুড়ে হাজার হাজার তথ্য সমৃদ্ধ বৈঠকের আয়োজন ও সরকারি গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়।

প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে এই আইনের সমর্থনে বলেন, “হ্যাঁ ভোট দেওয়ার অর্থ হচ্ছে একতার পক্ষে, বিপ্লবের ও সমাজতন্ত্রের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জানানো।”

সরকারের প্রচারণা সত্ত্বেও, ধর্মীয় নেতারা, বিশেষত ক্যাথোলিক বিশপরা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। কিউবার ক্রমবর্ধমান ধর্মপ্রচারক সম্প্রদায় খোলাখুলিভাবে এই বিধানের বিরুদ্ধাচারণ করে জানায়, এতে প্রথাগত পারিবারিক কাঠামো হুমকির মুখে পড়বে।

এই উদ্যোগটি ইতোমধ্যে কিউবার জাতীয় সংসদের অনুমোদন পেয়েছে। এর আগে বেশ কয়েক বছর ধরে এ ধরণের সংস্কার নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।