বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার আউলিয়ার ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবিতে নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে, পঞ্চগড় জেলা হিন্দু বৌদ্ধ ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পঞ্চগড় জেলা শাখা যৌথভাবে এবারের দুর্গোৎসব অনাড়ম্বরভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর)পঞ্চগড় জেলা হিন্দু বৌদ্ধ ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পঞ্চগড় জেলা শাখা পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবধন বর্মন ও সাধারণ সম্পাদক বিপেন চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, পঞ্চগড় জেলা হিন্দু বৌদ্ধ ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পঞ্চগড় জেলা শাখা এক যৌথসভায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো হলো; পূজার সময় কালোব্যাজ ধারণ, সপ্তমী তিথিতে প্রত্যেক পূজা মণ্ডপে প্রয়াত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা, প্রত্যেক পূজামণ্ডপে পাওয়া অর্থ থেকে, প্রয়াত ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনাসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান।
এছাড়া, প্রয়াত ব্যক্তিদের নামে দুর্ঘটনাস্থলে প্রয়াত ব্যক্তিদের নামের তালিকাসহ স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে যৌথ সভায়।
পঞ্চগড় জেলা হিন্দু বৌদ্ধ ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল রায় জানান, “বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পঞ্চগড় জেলা শাখার সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরাও একমত হয়েছি। এ সিদ্ধান্তের কথা জেলার ২৯৬টি মণ্ডপ কমিটিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
আর কোন মরদেহ পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদে জেলা প্রশাসনের স্থাপিত জরুরি তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত তিনজন নিঁখোজ রয়েছেন।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত ৫ সদস্যের কমিটি, রবিবার (২ অক্টোবর) প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত টিমের প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর কুমার রায়।