ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করতে ফিফা’র প্রতি আহ্বান নারী অধিকার সংগঠনের

কাতার যখন ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন দোহা কর্নিশ সংলগ্ন কাউন্টডাউন ঘড়িটির সামনে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকার সঙ্গে ইরানের পতাকাটি উত্তোলন করতে দেখা যাচ্ছে, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২। (ফাইল ফটো) FILE

ওপেন স্টেডিয়ামস নামের অধিকাররক্ষা সংগঠনটি ফিফা’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা ইরানকে, নারীদের প্রতি তাদের আচরণের জন্য, নভেম্বরে কাতারে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের খেলা থেকে বহিষ্কার করে।

ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফ্যানটিনো-কে বৃহস্পতিবার পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি বলে যে, ফুটবলের তত্ত্বাবধায়ক সংগঠনটির চাপ সত্ত্বেও, ইরানের কর্তৃপক্ষ তাদের দেশে অনুষ্ঠিত খেলাগুলোতে নারী ভক্তদের উপস্থিত হতে বাধা দেওয়া অব্যাহত রেখেছে।

চিঠিতে বলা হয়, “ইরানের এফএ (ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) শুধুমাত্র শাসকগোষ্ঠীর অপরাধগুলোর সহচরই নয়। তারা ইরানের ভেতরে সহ আমাদের জাতীয় দল বিশ্বের যেখানেই খেলুক, সেখানেই নারী ভক্তদের নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি। ফুটবল আমাদের সকলের জন্যই একটি নিরাপদ স্থান হওয়া উচিৎ।সেকারণেই, ইরানের ফুটবল ভক্ত হিসেবে, আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ বিষয়ে আমাদেরকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমাদের উদ্বেগ তুলে ধরতে হচ্ছে।”

“ফিফা কেন ইরান রাষ্ট্র ও সেটির প্রতিনিধিদের একটি বিশ্বমঞ্চ দিবে, যখন কিনা তারা শুধুমাত্র মৌলিক মানবাধিকার ও মর্যাদাকেই প্রত্যাখ্যান করে না, বরং বর্তমানে নিজেদের মানুষদের নির্যাতন ও হত্যা করছে?”

“এই বিষয়ে ফিফার বিধিগুলোর মূলনীতিগুলো কোথায়?”

“ আর তাই, ফিফার বিধির ধারা ৩ ও ধারা ৪ এর উপর ভিত্তি করে, আমরা ফিফাকে অনুরোধ করছি যেন, তারা অবিলম্বে ইরানকে কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করে।”

উল্লেখিত ঐ ধারাগুলোতে মানবাধিকার এবং লিঙ্গ, জাতি, ধর্ম ও অন্যান্য বিষয়ের উপর ভিত্তি করে বৈষম্য না করার বিষয়গুলো বর্ণিত রয়েছে। এমন ধারা লঙ্ঘন এই বৈশ্বিক সংগঠনটি থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা বহিষ্কারের মাধ্যমে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে ফিফা বা ইরানের এফএ, কেউই তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।