যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী কোরীয় উপদ্বীপ এলাকা ছাড়ার পর আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল উঃ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সোলের এক রেলস্টেশনে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ফাইল ফুটেজ ব্যবহার করে টেলিভিশনে একটি সংবাদ সম্প্রচারের সময়ে সেটির কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি, ৯ অক্টোবর ২০২২।

উত্তর কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আগের সন্ধ্যায় দেশটি অস্বাভাবিকভাবে গভীর রাতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরীর টাস্ক ফোর্স দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে দ্বিতীয় সপ্তাহের মত একটি নৌমহড়া শেষ করার কয়েকঘন্টা পরই ঐ পরীক্ষাটি চালানো হয়। এর আগে জাপানের উপর দিয়ে উত্তর কোরিয়ার মধ্যমপাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর বিমানবাহী রণতরীটি কোরিয় উপদ্বীপের উপকূলবর্তী সমুদ্রে ফিরে গিয়েছিল। ঐ পদক্ষেপটিকে উত্তর কোরিয়া “আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্যভাবে বিশাল নেতিবাচক ঘটনা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।

শনিবার দিবাগত রাত ১:৪৮ ও ১:৫৮ মিনিটের মধ্যে দুইটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয় বলে, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মুনচন এলাকা থেকে পূর্ব সাগরে উৎক্ষেপণ করা হয়, যা কিনা জাপান সাগর হিসেবেও পরিচিত। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ৩৫০ কিলোমিটার উড্ডয়ন করে এবং সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছায় বলেও, তারা জানিয়েছে।

জাপানের জ্যেষ্ঠ উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী, তোশিরো ইনো একই ধরণের তথ্য জানান। তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাত ১:৪৭ ও ১:৫৩ মিনিটের মধ্যে উৎক্ষেপণ করার পর সেগুলো জাপানের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসে পড়ে। তিনি জানান, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উড্ডয়ন করে ও সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার উচ্চতায় ওঠে। তিনি আরও বলেন যে, সেগুলো সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল কিনা, সেই সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত মুনচনে একটি নৌঘাঁটি রয়েছে, যেটিতে ২০১৬ সালে সংস্কারকাজ পরিলক্ষিত হয়েছিল।

এক জরুরি বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, অব্যাহতভাবে স্বল্প ও মধ্যমপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রতি নিন্দা জানিয়ে, সেগুলোকে এমন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড বলেছেন, যেগুলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন লঙ্ঘন করে। রবিবারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ১৫ দিনের মধ্যে সপ্তম এমন ঘটনা। এটি এ বছরের রেকর্ড পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় আরও ধারাবাহিকতা যোগ করল।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড তাদের পর্যালোচনায় বলে যে, সর্বসাম্প্রতিক এই উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের জন্য কোন আশু হুমকি ছিল না। একইসাথে তারা দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের প্রতিরক্ষার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের “লৌহকঠিন” অঙ্গীকারের বিষয়টিও নিশ্চিত করে।