বাংলাদেশের নতুন সেতুগুলো আঞ্চলিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নবনির্মিত মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান সেতু এবং ছয় লেনের মধুমতি সেতু অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। নতুন-উন্মুক্ত সেতুগুলো আঞ্চলিক সংযোগ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।”

সোমবার শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর তৃতীয় সেতু এবং মধুমতি নদীর ওপর বাংলাদেশের প্রথম ছয় লেনের সেতু উদ্বোধনকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা তার কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুগুলো উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, “এ দুটি সেতু নেপাল, ভুটান ও ভারতসহ এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “পারস্পরিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে, চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর, ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শক্তিশালী করার পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “এই সেতু দুটির সুবাদে বাংলাদেশের অবহেলিত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দ্রুত উন্নয়ন হবে।”

সেতু দু’টি নির্মাণে সহযোগিতার জন্য জাপান ও সৌদি আরব সরকারকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “মধুমতি সেতু ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদারে ভূমিকা রাখবে। আর, মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান সেতুর সুবাদে পদ্মা সেতু দিয়ে আসা যানবাহনকে আর ঢাকায় প্রবেশ করতে হবে না। এর ফলে ঢাকার ওপর যানবাহনের চাপ কমবে।”

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন করার লক্ষ্যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর তার সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশে বড় অবকাঠামো নির্মাণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ইশা ইউসেফ আল দুহাইলান।