লাইবেরিয়ার সাবেক এক বিদ্রোহী ১৯৯০-এর দশকে পশ্চিম আফ্রিকার গৃহযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ, নির্যাতন ও বর্বরতার অভিযোগে সোমবার প্যারিসে বিচারের মুখোমুখি হন।
৪৭ বছর বয়সী কুন্তী কামারার বিরুদ্ধে ১৯৯৩-১৯৯৪ সালে লাইবেরিয়ার লোফা কাউন্টিতে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে উলিমো সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্যতম নেতা হিসেবে "ব্যাপক ও পদ্ধতিগত নির্যাতন ও অমানবিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার" অভিযোগ আনা হয়েছে। তখন তার বয়স ছিল ২০ বছরেরও কম।
যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত কামারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শিকারদের সহায়তা করার জন্য বিশেষজ্ঞ সুইস-ভিত্তিক গ্রুপ সিভিটাস ম্যাক্সিমা দ্বারা দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৮ সালে প্যারিসের কাছে কামারাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তের সময় তিনি স্বীকার করেছিলেন, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের কমান্ডার ছিলেন, গৃহযুদ্ধের সময় প্রায় ৮০ জন সৈন্যকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন - তিনি চার্লস টেইলরের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করার জন্য তা বেছে নিয়েছিলেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ , তিনি একজন ব্যক্তিকে আঘাত করেন এবং তারপরে তার হৃদপিন্ড বের করে খাওয়ার জন্য একটি কুড়াল দিয়ে তার বুক খুলেছিলেন। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যে তিনি ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মাধ্যমে এবং অমানবিক পরিস্থিতিতে মানুষকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করেছেন ।
প্যারিসের এই ফৌজদারি আদালতের বিচার একটি ফরাসি আইনের অধীনে সম্ভব হয়েছে। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং নির্যাতনের জন্য সর্বজনীন এখতিয়ারকে স্বীকৃতি দেয়।
অধিকার গোষ্ঠীগুলি এই বিচারকে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার আনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে অভিহিত করেছে।
গ্লোবাল জাস্টিস অ্যান্ড রিসার্চ প্রজেক্টের প্রধান হাসান বিলিটি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, এটি "লাইবেরিয়ার ভুক্তভোগীদের জন্য একটি বিজয় এবং অপরাধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা যে তারা যেখানেই থাকুক না কেন, আমরা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি যে লাইবেরিয়াতে তারা যে অপরাধ করেছে তার জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।"
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সহযোগী আন্তর্জাতিক বিচার পরিচালক এলিস কেপলার বলেন, "গৃহযুদ্ধের সময় গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার জন্য লাইবেরিয়ান কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কারণে এই বিচার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।"
লাইবেরিয়ার গৃহযুদ্ধে ১৯৮৯ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে আনুমানিক ২৫০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছিল।