ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার করতে চায় নেটো

ইউক্রেনের মেজর জেনারেল এডুয়ার্ড মোস্কালিভ, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেকি রেজনিকভ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক এ মিলি নেটোর সদর দপ্তরে ১২ অক্টোবর, ২০২২ তারিখে একটি বৈঠকে অংশ নেন।

নেটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা বুধবার ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উপায়গুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। রাশিয়া এই সপ্তাহে ইউক্রেন জুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর উপর ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।

নেটোর মহাসচিব জেনস স্টল্টেনবার্গ সংবাদদাতাদের বলেন, ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত আলোচনা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করছে। তিনি বলেন, এটি আমাদের নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে রাশিয়ার হামলার সুযোগ রয়েছে যা "ফেব্রুয়ারিতে আগ্রাসনের পর থেকে যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুতর অবস্থা"।

সোমবার থেকে ইউক্রেনজুড়ে ১০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হয়েছে।

স্টল্টেনবার্গ বলেন, নেটোর মিত্ররা কিয়েভকে এই বার্তা পাঠাচ্ছে যে, তারা ইউক্রেনকে 'যতদিন সময় নেবে' ততদিন সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

যুক্ত্ররাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, " তাদের সাহস আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। পুতিন যুদ্ধকে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু ইউক্রেন নিজেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এটি চমৎকারভাবে কাজ করেছে। "

পুতিন বলেন, গত শনিবারের ট্রাক বোমা হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় এ সপ্তাহে রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সেটি রাশিয়ার মূল ভূখন্ডকে ক্রাইমিয়া উপদ্বীপের সঙ্গে সংযোগকারী কৌশলগত কের্চ ব্রিজের কিছু অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে। রাশিয়া ২০১৪ সালে উপদ্বীপটি দখল করে নেয়।

বুধবার মস্কোর এফএসবি নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ জন রুশসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এতে বলা হয়, তিনজন ইউক্রেনীয় ও আর্মেনিয়ান এই হামলা চালাতে সহায়তা করেছে।

এফএসবি'র বিবৃতিতে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা এটিকে একটি "সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড" হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এফএসবি এটিকে একটি পণ্যবাহী ট্রাকের পিছনে লুকানো বিস্ফোরকের জন্য দায়ী করেছে যা সেতুর উপর বিস্ফোরিত হয়েছিল।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা এই হামলা চালিয়েছে কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকার করেনি। ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রক রাশিয়ার তদন্তকে 'অর্থহীন' বলে অভিহিত করেছে।

জি-৭ নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, তারা জেলেন্সকির পাশে আছেন বলে আশ্বস্ত করেছেন তারা বলেছেন, মস্কোর 'নিরপরাধ বেসামরিক জনগণের ওপর নির্বিচারে হামলা একটি যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে গণ্য হবে।

পুতিনের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকির মধ্যে জি-৭ পুনরায় বলেছে, মস্কো যদি গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করে তবে তা 'মারাত্মক পরিণতি' বয়ে আনবে, কিন্তু তারা ইউক্রেনে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

ভয়েস অব আমেরিকার হোয়াইট হাউজের সংবাদদাতা প্যাটসি উইদাকুসওয়ারা এই প্রতিবেদনে অবদান রেখেছেন। রয়টার্স ও এপি থেকে কিছু তথ্য নেয়া হয়েছে।